নবাবগঞ্জে মাদকের অভয়ারণ্য হরিষকুল

ফন্ট সাইজ:

ঝোপঝাড়ে ঘেরা নির্জন পথ। দিনের আলোতেও যেখানে মানুষের চলাচল খুবই কম। সেই পথ পেরিয়ে পরিত্যক্ত কয়েকটি ভিটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই এসব স্থানে শুরু হয় মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা। ঝোপঝাড়ের আড়ালে গড়ে ওঠা আস্তানাগুলোতে বসে মাদকের আড্ডা। এমন চিত্র দেখা যায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামে। একসময় শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত এ গ্রাম এখন মাদক ব্যবসা ও সেবনের কারণে আলোচনায়। স্থানীয়দের দাবি, আয়ুর আলী ভিটা, উত্তর হরিস্কুলের গোবিন্দ সরকারের আমবাগান, নরেশ সরকারের ভিটাসহ আশপাশের একাধিক নির্জন স্থানে দিন-রাত বসে মাদকের আসর। পাশাপাশি হরিষকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের কাছে বিদ্যালয়টি এখন লাল দালান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

জানা যায়, রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো না হওয়ায় প্রশাসনের খুব একটা যাতায়াত নেই হরিষকুলে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকাটি। তবে ভয়ে কথা বলতে রাজি হননি স্থানীয় বাসিন্দারা। যারা কথা বলেছেন, তাদের চোখেমুখেও ছিল উদ্বেগের ছাপ। মাদকের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসী জানান, মাদকসেবীদের বেপরোয়া চলাফেরায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। প্রতিবাদ করতে গেলেই নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয় তাদের। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, হরিষকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের সিঁড়িতেও নিয়মিত বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

হরিষকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ সরকার বলেন, দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যুবকদের আড্ডা বসে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের সিঁড়িতে বসেই মাদক সেবন করে প্রকাশ্যে। দুঃখের বিষয় দিনের বেলাও স্কুল খোলা থাকা অবস্থায় পরিচিত অপরিচিত ছেলেদের আনাগোনা দেখা যায় বিদ্যালয়ে। এতে পড়াশুনা বিঘ্ন ঘটছে। মাদক নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য কমিটি করা হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু করা হয়নি। সকলের প্রচেষ্টায় দ্রুত নির্মূলের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকসেবীদের ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন হরিষকুলবাসী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন