ভোলার দৌলতখানে শিশু আবু ছায়াদ (৬) হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রোববার সকাল ১১টায় উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোসলে উদ্দিনের বাড়ির সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, গত শুক্রবার বিকালে পুকুর থেকে ছায়াদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেলে শিশুটির বাবা-মা ও স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত শিশু ছায়াদ ওই এলাকার মোসলে উদ্দিনের ছেলে।
রোবাবর শিশু ছায়াদ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেয় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন রাকিব ও তার সহযোগী অভিযুক্ত সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি মিলন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নিহতের বাবা মোসলে উদ্দিন জানান, আমার ছেলেকে যখন পুকুরে খোঁজা হচ্ছিল, তখন পুকুরে মাছ চাষকারী মিলন পাটওয়ারী ও তার সম্পর্কে ভাগিনা রাকিব গালিগালাজ করে খুঁজতে বাধা প্রদান করে। লাশ পাওয়া গেলে তারা সেখান থেকে চলে যায়। ইতিপূর্বে রাকিব আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকেও কয়েক দফা মারধর করে। তিনি আরো জানান, মিলন পাটওয়ারী গং আমাদের কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে বর্তমানে দলিল দিতে তালবাহানা, ঘর নির্মাণ, বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তায় চলাচলে বাধা প্রদান ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছে। শত্রুতার জেরে আমার শিশু সন্তাকে হত্যার করেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
এদিকে, অহিদ পাটোয়ারী ও মিলন পাটোয়ারী গংদের হাতে নির্যাতিত বিবি হালিমা ও ফরিদা জানান, আমাদের কলেজপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য ঘরের কাজ করতে চাইলে মিলন পাটোয়ারীর ছেলে দফায় দফায় টাকা নিয়ে ঘর উত্তোলন করতে দেয়নি। স্ট্যাম্পের মাধ্যমে টাকা নিয়ে দলিল দিতে গড়িমসি করে আমাদেরকে উচ্ছেদের জন্য হুমকি প্রদান করছে। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
