তবুও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই তাদের

তবুও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই তাদের

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনকে ঘিরে মৃতপ্রায় এফডিসিতে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতবারের শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। মুক্তি-আরমান পরিষদ এবং শিবা শানু-জয় চৌধুরী এই দুই পরিষদ ইতিমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় নেমেছেন। যদিও বাপ্পারাজ ও রোমানা ইসলাম মুক্তি একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাপ্পারাজ সরে যান। পরবর্তীতে তার স্থলে আরমানকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এবারে এফডিসি’র এই নির্বাচনের দৃশ্যপট ভিন্ন। পুরনো শিল্পীদের মধ্যে নূতন ও রোজিনা শিল্পী সমিতির নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন। নির্বাচনে সন্তুষ্ট নন খোদ সহ-সভাপতি প্রার্থী নূতন।

তিনি মানবজমিনকে বলেন, সহ-সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি ঠিক। কিন্তু ব্যক্তিগত আগ্রহের চেয়ে মুক্তি-আরমানের অনুরোধ রাখতেই এই অংশগ্রহণ। নূতন বলেন, এই সমিতির পদ-পদবি পাওয়ার জন্য কেন যে এত আগ্রহ অনেকের মধ্যে, একমাত্র আল্লাহই জানেন। জায়েদ-মিশার সময়ে প্রতিটি জুনিয়র শিল্পী এবং ফাইটার ভাইদের ব্যক্তিগতভাবে হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলাম, তারা যেন এদেরকে জয়যুক্ত করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসেই আমার সঙ্গে তারা পল্টি নিয়েছিল। নূতন আরও বলেন, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ। আজকাল নির্বাচন মানেই সিন্ডিকেট। আপনার অনৈতিক অনুরোধ রাখতে পারলেই আমি ভালো মানুষ। মাঝে এতটা অসুস্থ ছিলাম, দীর্ঘদিনের আমার সহকর্মীরা একবার খোঁজও নিলো না। আবার এখন কিছু হোমড়া-চোমড়া শিল্পী রয়েছে, তারা সিনেমার পয়সায় বাড়ি গাড়ি করেছেন, কিন্তু সাহায্যের বেলায় ঠনঠন।

এই যে শাকিব খান, ভারতে গিয়ে সিনেমায় অভিনয় করে। কই, সে তো কখনোই আমাদের মতো পুরনো শিল্পীদের কাজে ডাকে না। যখন চলচ্চিত্রে সে নতুন ছিল, আমাকে ম্যাডাম ম্যাডাম বলে মুখে ফেনা তুলতো। ওই যে প্রবাদ আছে না? সব শিয়ালের এক রা। চিত্রনায়িকা রোজিনাও শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই।

কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, চলচ্চিত্রই নেই তার আবার শিল্পী সমিতি! চলচ্চিত্র নির্মাণে লগ্নিকারকদের আগ্রহী করে তোলা, শিল্পীদের কাজের ব্যবস্থা করা সব থেকে বেশি জরুরি। আমাদের অনেক জুনিয়র সহশিল্পীদের অবস্থা দুর্বিষহ। অনেকে অসুস্থ, বিছানায় একবেলা খাবারের জোগান নেই। এদিকে প্রথম নজর দেয়া দরকার। শিল্পী সমিতি নির্বাচন তো এসবের সমাধান করতে পারে না। শুধু শুধু সময় নষ্ট। আর এফডিসি কেন্দ্রিক সিনেমা তো নেই বললেই চলে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন