আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর

ফন্ট সাইজ:

তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৬ লাখের বেশি গ্রাহকের জনজীবন। এরই মধ্যে রোববার সকালে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে কেন্দুয়া পৌর শহরে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন একদল ফুটবলপ্রেমী। তারা কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অফিস ভবনের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। আকস্মিক হামলায় আতঙ্কিত হয়ে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করেন।

তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক জানান, উপজেলায় প্রায় ৯৪ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাই, তা দিয়েই গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করতে হয়। এর বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানান তিনি। কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অফিসের কাজে বাইরে অবস্থান করছি যেকারণে অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানতে পারিনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আকরাম হোসেন জানান, সমিতির আওতায় নেত্রকোণার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের দু’টি উপজেলায় মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেত্রকোণার ১০ উপজেলাতেই গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণে সব গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যারা অফিসে হামলা চালিয়েছেন, তারা প্রকৃত পরিস্থিতি না বুঝেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন