কলাপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

কলাপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের মাছ বাজার সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। সে নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি। যন্ত্রণাকাতর শরীর নিয়ে আহত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রাত ৮টার দিকে একটি মোবাইলের দোকানে বসেছিলেন তিনি। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ও মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লালের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তার ওপর দু’দফা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে সে গুরুতর জখম হলে তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর আগে গত ২১শে জুন শহরের স্লুইস এলাকায় তার বোনের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিতে সারাদিন বরিশালে ছিলেন। সন্ধ্যার পর এলাকায় ফিরে এসে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া, কে বা কারা হামলা করেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান। তিনিও অন্যদের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তারা ঘটনাটির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী মো. হুমায়ুন শিকদার বলেন, আহত সাংবাদিককে তিনিসহ দলের অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালে দেখতে গেছেন। তার ভাষ্য, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পটুয়াখালী-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি, গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন