বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি এক চরম ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন একটি নিথর জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জুগিয়েছিল, তেমনি ১৯৭৫-পরবর্তী টালমাটাল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে তিনি ভঙ্গুর এক রাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১-এই সংক্ষিপ্ত শাসনকালে তিনি কেবল একজন শাসক নন, বরং আধুনিক বাংলাদেশের প্রধান সংস্কারক ও স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সুদূরপ্রসারী এবং জনকল্যাণমুখী, যার সুফল বাংলাদেশ আজও ভোগ করছে। তাঁর শাসনকাল ছিল মূলত ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি জাতিকে পুনর্গঠনের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়।
জিয়াউর রহমানের প্রথম এবং প্রধান রাজনৈতিক কৃতিত্ব ছিল দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনপ্রতিষ্ঠা। ১৯৭৫ সালে প্রণীত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে যে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বা বাকশাল কায়েম হয়েছিল, তিনি তা বিলুপ্ত করে একটি প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেন। এটি ছিল একটি সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ তৎকালীন সময়ে বিশ্বরাজনীতিতে একদলীয় শাসনের জয়জয়কার ছিল। জিল্লুর রহমান খান (১৯৮২) তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে উন্মুক্ত করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি ‘পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন’ এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেন এবং নিজে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করে দেশের সব মত ও পথের মানুষকে একই পতাকাতলে নিয়ে আসেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছিল তাঁর গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন। একই সময়ে তিনি সংবাদপত্রের ওপর থেকে সেন্সরশিপ তুলে নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালোয়ার বিন সাঈদ (১৯৮২) এর মতে, জিয়ার এই ‘গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম’ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি রাষ্ট্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ।
অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন—এই দর্শন থেকে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক ধাঁচ থেকে সরিয়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লোকসানি কল-কারখানাগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা দেশে একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা শ্রেণী তৈরি করে। জিলুর রহমান (১৯৯১) এর মতে, তাঁর সময়ে ২১০টিরও বেশি রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বিজাতীয়করণ করা হয়েছিল। আজকের মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক শিল্প, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি, তার গোড়াপত্তন হয়েছিল জিয়ার আমলেই। ১৯৭৮ সালে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি ‘ডেইউ’-এর কারিগরি সহায়তায় ‘দেশ গার্মেন্টস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত করেন। এছাড়া ১৯৭৭ সালে দীর্ঘকাল বন্ধ থাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু করে তিনি দেশের পুঁজি বাজারকে চাঙ্গা করেন। তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি গতিশীল হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র ব্যবসা করবে না, বরং রাষ্ট্র ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করে দেবে। এই দর্শনেই তিনি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ছিল জিয়ার রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বিশ্বাস করতেন, গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ শুরু করেন। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার নতুন সেচ খাল খননের মাধ্যমে তিনি কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। মার্কাস ফ্র্যান্ডা (১৯৮২) তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে কৃষকের সাথে খাল খননে অংশ নিয়ে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও পানি সেচ দেওয়া সম্ভব হয় এবং হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি পায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে দেশে চালের উৎপাদন ছিল ১১.৫ মিলিয়ন টন, যা ১৯৮১ সালে তাঁর শাহাদাতের সময় ১৩.৬ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়। এছাড়া গ্রামীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে তিনি ১৯৮০ সালের ৩০ মে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর উদ্যোগ নেন। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ (১৯৮৮) মনে করেন, জিয়ার সময়কালীন ‘সবুজ বিপ্লব’ কর্মসূচি বাংলাদেশকে খাদ্য আমদানিকারক দেশ থেকে স্বনির্ভরতার পথে নিয়ে যায়। গ্রামীণ ব্যাংকের মতো ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের আদি রূপ তাঁর সময়েই ‘নিবিড় কৃষি ঋণ’ কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।
শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি প্রথম বাংলাদেশে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করেন এবং সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা প্রবর্তন করেন, যা নারী ক্ষমতায়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করে। ১৯৮০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশব্যাপী ‘গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল নিরক্ষরতা দূর করা। এডুকেশন প্ল্যানারদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র কয়েক বছরে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। শিশুদের মেধা বিকাশে ১৯৭৭ সালে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা এবং শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে ‘শিল্পকলা একাডেমি’র সংস্কার তাঁর সৃজনশীল চিন্তা ও জাতীয়তাবোধের পরিচয় দেয়। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রোধে ১৯৭৬ সালে তাঁর ‘একটি ছেলে বা একটি মেয়ে, হলে ভালো হয়’ স্লোগানটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি প্রায় ৩৮,০০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যান, যার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৬ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমান ছিলেন এক অনন্য কূটনীতিবিদ। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই ১৯৭৮ সালে শক্তিশালী জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১৯৭৯-৮০ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। হাবিবুল হক খন্দকার (২০০১) এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এটি ছিল তৎকালীন সময়ের অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয়। তিনি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘সার্ক’ (ঝঅঅজঈ) গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নেপালের রাজা—সবাই তাঁকে এই আঞ্চলিক ঐক্যের মূল কারিগর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বিশাল বাজার উন্মুক্ত করেন। ১৯৮০ সালের ২৭-২৮ আগস্ট প্রথম বাংলাদেশী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাথে তাঁর বৈঠক বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুসংহত করেছিল। কার্টার (১৯৮০) তাঁর মন্তব্যে জিয়াউর রহমানকে একজন ‘স্টেটসম্যান’ বা বিশ্বনেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন।
জিয়াউর রহমান জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির জন্য ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবর্তন করেন। এটি ছিল দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সকল ধর্ম, বর্ণ ও উপজাতীয় মানুষের মধ্যে এক অভিন্ন পরিচয় তৈরির প্রয়াস। এম. জি. কবির (১৯৮৭) তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, জিয়া বিশ্বাস করতেন জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় কেবল ভাষায় নয়, আমাদের ভূখণ্ড ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে। তাঁর এই দর্শন পাহাড়ী ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিভাজন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কাজ করেছে। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের এক কমপ্রিহেনসিভ ব্লুপ্রিন্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ঠউচ) এবং আনসার বাহিনীকে ঢেলে সাজান, যা গ্রামীণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জাদুকরী প্রভাব ফেলেছিল। তিনি কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি, বরং ব্যক্তিগত সততা ও চরম কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আদর্শে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর ছেঁড়া গেঞ্জি ও সাধারণ জীবনযাপনের গল্প আজও এদেশের মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত একটি জাতিকে চরম অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বহাল রাখার মতো সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ঐতিহাসিক আহমেদ কামালের (অযসবফ, ২০০৮) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তগুলো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ছিল না; বরং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি স্থিতিশীল, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটানো। জিল্লুর রহমান খান (কযধহ, ১৯৮২) উল্লেখ করেছেন যে, জিয়ার এই সময়োপযোগী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থানই একটি খণ্ডিত সমাজকে অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক ও ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে এই মহানায়ক শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে পুরো বাংলাদেশ যেন এক বিশাল শোকের মিছিলে পরিণত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ও জীবনীকারদের মতে, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের অশ্রুসজল উপস্থিতি এবং তাঁর জানাজায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছিল যে, তিনি ছিলেন গণমানুষের সত্যিকারের নেতা। জিয়াউর রহমান আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার অর্থনীতি, তৈরি পোশাক শিল্প এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অবিনাশী চেতনা আজও বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে মিশে আছে। তিনি ছিলেন এমন একজন কর্মবীর নেতা যিনি বলতেন, “আমি রাজনীতি করি না, আমি দেশ গড়ি।” আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে তাঁর সেই দেশ গড়ার শ্রম ও স্বপ্ন মিশে আছে। যতদিন এই সার্বভৌম বাংলাদেশ মানচিত্রে থাকবে, শহীদ জিয়া তাঁর কালজয়ী কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল দীপ্যমান থাকবেন।
লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কনভেনর, সাদা দল, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
