মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেজিং প্রোগ্রাম’ এবং দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। দুই কর্মসূচিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’র আওতায় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেজিং প্রোগ্রামটি রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্টের আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও দক্ষতা বিকাশে দেশব্যাপী উপজেলা, জেলা, মহানগর ও জাতীয় পর্যায়ে এই স্টার্ট-আপ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। এতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি দলে রয়েছেন তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক। গত ১২ই জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানায় উপজেলা পর্যায়ের শোকেজিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮ হাজার ২৯টি দলে ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ই জুন জেলা পর্যায়ে তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপন করে।
জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল আজ রোববার জাতীয় পর্যায়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে। প্রদর্শনকারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেয়া হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। মনোনীত শিক্ষকরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আজ রোববার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ভেন্যু পরিদর্শন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মতে, জাতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই আয়োজনকে শুধু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পরিণত করবে।
এদিকে একই দিনে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন লেইস প্রজেক্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।
এ জন্য প্রতিবছর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা করে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় অনুষ্ঠান সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে জলবায়ুবিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র্যালির আয়োজন করা হবে।
