মারা যাওয়া ৯২% শিশু হামের টিকা পায়নি

সহযোগীদের খবর

মারা যাওয়া ৯২% শিশু হামের টিকা পায়নি

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘মারা যাওয়া ৯২% শিশু হামের টিকা পায়নি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার কোনো টিকা পায়নি। মারা যাওয়া শিশুদের ২৬ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।

হামে শিশুমৃত্যুর এই তথ্য দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সভায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের হাম প্রতিরোধক্ষমতার কমতি ও টিকা কার্যক্রমে নজরদারির ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি এমন হয়েছে।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৩ জনের। রোগতত্ত্ববিদেরা বলেন, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।

হাম-রুবেলা কতটা নির্মূল হলো, তা যাচাইয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক কমিশন কলম্বোতে ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে। একটি দেশ হাম নির্মূলে কতটা অগ্রসর হয়েছে, তা সদস্যদেশের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেগুলোর মূল্যায়ন করে এই কমিশন।

ওই সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালকও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিশনকে প্রতিবেদন দেয় সংশ্লিষ্ট দেশের এনভিসি। এনভিসি সদস্যদেশগুলোর হাম-রুবেলা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি দেশে এনভিসি আছে।

২২-২৩ জুন অনুষ্ঠিত ওই সভায় অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা।

দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক একজন করে মেডিক্যাল কর্মকর্তা আছেন। রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য তাঁরা অন্যান্য রোগের মতো হাম-রুবেলার তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্যের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণের একটি ব্যবস্থা আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।

গতকাল মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলম্বোতে উপস্থাপন করা তথ্য জুন মাসের প্রথমার্ধের। তাতে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। কিন্তু আমি মনে করি জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়ে যে সাত শর বেশি হওয়ার কথা আমরা জেনেছি, সে ক্ষেত্রেও টিকা না পাওয়ার হার একই হবে।’

কোন বয়সীর বেশি মৃত্যু

হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই হামে বেশি আক্রান্ত হয়। শিশু নয় এমন অনেক মানুষ এ বছরও হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রথম আলোর একাধিক প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের তথ্যে শিশুদের বয়স, লৈঙ্গিক পরিচয়, আক্রান্ত হওয়ার কত পরে মানুষ হাসপাতালে আসছে, হাসপাতালে আসার কত পরে মৃত্যু ঘটছে, যাদের মৃত্যু হচ্ছে তাদের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) রাখা হয়েছিল কি না—এ ধরনের কোনো তথ্য থাকে না। কিন্তু মানুষ তা জানতে চায়।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা এসব তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। জনস্বাস্থ্যবিদেরাও এসব তথ্য চেয়ে পাচ্ছেন না। তবে কলম্বোতে কিছু তথ্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

টিকা হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ৯ মাস বয়সে। একই টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ১৫ মাস বয়সে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, মারা যাওয়া শিশুদের মাত্র ৮ শতাংশ টিকা পেয়েছিল।

কলম্বোর সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৬ শতাংশ শিশু মারা গেছে বয়স ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই। ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪ শতাংশ, এক বছর থেকে দুই বছর বয়সী ১৩ শতাংশ, দুই বছর থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১৮ শতাংশ, ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ১৩ শতাংশ এবং ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৪ শতাংশ শিশু। বাকি ১২ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের বেশি। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা পরিষ্কার যে খুব ছোট শিশু ছাড়াও বয়স্ক মানুষ হামে আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রচার করা হয় টিকার কাভারেজ ভালো, বাস্তবে ভালো না। বহু শিশুকে টিকা না দিয়েই বলা হয়েছে টিকা পেয়েছে, টিকার সাফল্যের কথা গাওয়া হয়েছে। সব পরিসংখ্যান ছিল বানোয়াট। তথ্য-উপাত্তে কারচুপি করা হয়েছে। নজরদারির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনো জবাবদিহি। এত সব অনাচারের মূল্য দিতে হলো শিশুদের।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নিতে। এই সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের। হামের চিকিৎসায় মানুষ ভালোও হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

জরুরি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দরকার

এ বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায় বলে সেখানে উপস্থিত একাধিক প্রতিনিধি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। তবে বেশি গুরুত্ব পায় শিশুদের টিকা না পাওয়ার বিষয়টি।

২৫ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলম্বোতে বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হামের বিরুদ্ধে জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানা-বোঝার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তিস্তা ও অর্থনৈতিক করিডরে গুরুত্ব’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর ভূরাজনৈতিক, কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম বিদেশ সফরকে সফল হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে দুদেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশের পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী চীন দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামরিক লেনদেন বৃদ্ধি ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দুদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সব ধরনের সমীক্ষা ও সহযোগিতা, কুনমিং থেকে বাংলাদেশের বন্দর পর্যায় পর্যন্ত পরিবহণ সংযোগ এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের সম্ভাবনা যাচাইয়ের মতো নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বিএনপি ঘোষিত ‘ফার্স্ট বাংলাদেশ’ নীতির বড় সাফল্য হিসাবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এতদিন বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে ছিল। এবার সেটিকে উন্নীত করে ‘চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ শেয়ার্ড ফিউচার’-এ নেওয়া হয়েছে, যা চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বোচ্চ ধাপ।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের অর্জন তুলে ধরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োাগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় একান্তে আলোচনা করেন। এমনকি অন্য একটি দেশের সরকারপ্রধান অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায়ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা চালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে দুদেশের মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বিত আলোচনার জন্য ‘টু প্লাস টু ডায়ালগ মেকানিজম’ চালুর বিষয়টিও দুদেশ বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, চীন ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি এবং সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এমন একটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের প্রতি যে গুরুত্ব দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন-চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়পক্ষকে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি। এ সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে চীন থেকে ডিজেল ও এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও।

কালের কণ্ঠ

‘আলোচনায় চীনের করিডর প্রস্তাব’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান।

বৈঠকে অর্থনৈতিক করিডর, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন বাণিজ্য করিডর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় বেইজিং। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও চীন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ইস্যুটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কেমন হলো, কী পেল বাংলাদেশ? এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে রাজনীতিক ও কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছেন। এসব পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সফলতার ওপর।
ঢাকা-বেইজিং ১৭টি ইস্যুতে সমঝোতা স্মারক সই করার মাধ্যমে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত করে সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবেশ করার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে।

উভয় দেশ বেশ কিছু সহযোগিতার কথা বলেছে। প্রস্তাবে রয়েছে—মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণ এবং কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন মাত্রা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা তৈরি। আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এই প্রস্তাব দেন। এদিকে বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্মুখী পারস্পরিক ‘ব্যালান্স’ কূটনীতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও গবেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ কী পেল বলা মুশকিল। কেবল তো এমওইউ সই হয়েছে। অনেকগুলো এমওইউ সই হয়েছে। বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীনের ইকোনমিক করিডর নিয়ে শি চিনপিং আলোচনা করেছেন। এমওইউ সই করা আর ইমপ্লিমেন্টেশনের মধ্যে কিন্তু বড় গ্যাপ আছে। চীনের দিক থেকে তারা প্রস্তুত সাহায্য করা ও সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ কতখানি প্রস্তুত—সেটি আমাদের দেখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারণ এখানে বেশ কিছু বিষয় আছে, যা ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। যেমন—টু প্লাস টু অ্যাগ্রিমেন্ট যেটা করেছে, ফরেন পলিসি এবং সিকিউরিটি—সেটাও বলে দিয়েছে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্ক রাখবে। আবার তাইওয়ানের ব্যাপারেও বাংলাদেশ আর চীন অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশ চীনা পলিসিতে অনড় থাকবে। এ বিষয়গুলো এখন আমেরিকা কিভাবে দেখবে, সেটা দেখার বিষয়। তবে এমনিতে যথেষ্ট প্রোডাক্টিভ যে এমওইউগুলো সই করা হয়েছে সেগুলো এখন যদি ইমপ্লিমেন্টেশনে যাওয়াটা ত্বরান্বিত করতে পারেন।’

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশ এত দিনের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। যাতে দুই দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়। এটি যে কোনো দেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বোচ্চ স্তর। গত শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শীর্ষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় চীন সব সময় বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে থাকবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আদান-প্রদান জোরদার করতে চায় ঢাকা। চীন সফর শেষে শুক্রবারই দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান-শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দুই নেতা যৌথভাবে ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, নাইজেরিয়াসহ কিছু দেশের সঙ্গে চীনের এই পর্যায়ের সম্পর্ক রয়েছে।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বেইজিং সব সময় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। বিশ্ব পরিস্থিতির যতই পরিবর্তন ঘটুক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মূল ধারার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে চীন কখনোই বিচ্যুত হবে না। বরং চীন সব সময় বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন বাংলাদেশকে সমর্থন করে। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধি, সর্বস্তরে সম্পর্ক জোরদার, কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা এবং উভয় দেশের মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের মতো বিষয়ে একে-অপরকে সমর্থন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, চীন একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ প্রতিবেশী অঞ্চল গড়ে তোলার নীতি এবং বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা, পারস্পরিক সুবিধা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের নীতি মেনে চলে। নিজেদের অগ্রগতির পাশাপাশি চীন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি অব্যাহত রাখবে। চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সমর্থন করে এবং দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। এই সহযোগিতার আওতায় রয়েছে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধন, উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগের লক্ষ্যে ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ এর উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর সফরের সফলতা নির্ভর করছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফরে দেশটির বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগের (জিডিআই) সাথে বাংলাদেশে যুক্ত হয়েছে। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ২+২ কৌশলগত সংলাপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। চীন তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে তার সামর্থ্য অনুযায়ী সমর্থন ও সহায়তা দেবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কাজ ত্বরান্বিত করতে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞরা কাজ করবে। উভয় পক্ষ যৌথভাবে মংলা বন্দর পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নে কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

চীন জাতিসঙ্ঘের মতো বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকা পালনে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার আবেদনে সমর্থন জুগিয়েছে। সার্বিকভাবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেয়া রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর সফরের সফলতা নির্ভর করছে বলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের নিজ স্বার্থে যেকোনো দেশের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে। তবে এটি যাতে অন্য কোনো দেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে অর্জনের ওপর আলোকপাত করে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ গতকাল নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে বলেন, সরকার প্রধান পর্যায়ের সফরই যেকোনো দেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো। এই সফরের সময় যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, সেগুলো অর্জনের একটি চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ও চীনের মধ্যে আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ছিল। এবারের সফরে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আবারো বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এই সফরে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে দুই দেশের একসাথে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ চীন নিয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ধারায় ছেদ পড়া এবং রাখাইনে সশস্ত্র সঙ্ঘাতের কারণে এই উদ্যোগ আশানুরূপ ফল আনতে পারেনি। চীন এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগের (জিডিআই) সাথে বাংলাদেশে যুক্ত হয়েছে। এর আগে দেশটির বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছিল।

দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেয়া রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর সফরের সফলতা নির্ভর করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে পর দেয়া যৌথ ইশতেহারে নানাবিধ ইস্যুতে ইচ্ছা প্রকাশ ও অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই ইশতেহার বাস্তবায়নের সময়ই বোঝা যাবে আসলে দুই দেশ কতটা অর্জন করতে পেরেছে। বিশ্বের যে কয়টি দেশের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে চীন অন্যতম। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নদী শাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দেয়া চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। চীনের সহযোগিতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চীন কতটা কী করতে পারবে, সে সব খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য সময় প্রয়োজন।

বণিক বার্তা

‘সাদা পতাকা’ কাণ্ডে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভুল বার্তার শঙ্কা-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিয় দলের পতাকা টাঙানোর প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এটি কয়েক দশক ধরেই একটি সাধারণ চিত্র।

তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভিন্ন রকম এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন মূল সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় আরবি হরফে কালিমাখচিত বিশেষ ডিজাইনের বিপুলসংখ্যক সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে, কোথাও হয়েছে শোডাউন। এ পতাকা টাঙানো বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বকাপের ডামাডোলে এ ‘সাদা পতাকা’ প্রদর্শন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন নানামুখী আলোচনা চলছে, তেমনি তৈরি হয়েছে বিতর্কও। পতাকা টাঙানোয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, এগুলো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা গোষ্ঠীর পতাকা নয়; বরং ইসলামের কালিমাসংবলিত একটি নিশান। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিশেষ ডিজাইনের পতাকা বা প্রতীক ভুল বার্তা দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ও গণমাধ্যমে এটি বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রতীকের সমার্থক হিসেবে বিবেচিত ও উপস্থাপিত হতে পারে। আর সেক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রবাসী শ্রমবাজারে।

গত ১৭ জুন রাতে রাজধানীর শনির আখড়ায় একদল তরুণ যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের লোহার রেলিংয়ে সারিবদ্ধভাবে কালিমাখচিত সাদা-কালো পতাকা টাঙিয়ে দেন। এনামুল হাসান নামে একজন যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব পতাকা খুললে কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে। সাভার, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, যশোর, ফরিদপুরসহ দেশের আরো কয়েকটি এলাকায় বিশেষ নকশার এ পতাকা টাঙানো হয়েছে। অনেক এলাকায় আরবি হরফে কালিমাখচিত সাদা পতাকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নামানো হলেও কিছু সময় পর পুনরায় পতাকা টাঙানো হচ্ছে। পতাকা টাঙানো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিডিও বার্তাও রয়েছে। তাদের দাবি, কালিমাখচিত সাদা পতাকা ইসলামের নিশান হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সঙ্গে দেশী-বিদেশী কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সম্পর্ক নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন থেকে আধুনিক বিশ্বে প্রতীকের ব্যবহার সবসময়ই বিভিন্ন ধরনের বার্তা দেয়। সমর্থন প্রকাশ করতে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীককে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা অনুসারীরা ব্যবহার করতে পারেন। তাই সাদা পতাকার বিষয়টিকে শুধু স্থানীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার সুযোগ নেই। আর যদি তা কোনো বিশেষ আন্তর্জাতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সামাজিক সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ আস্থাকে অক্ষুণ্ন রাখা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব। এমন কোনো কর্মকাণ্ড, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভুল বার্তা দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে সংবেদনশীল ও বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে সতর্ক হতে পারলে ভালো। যে দেশের খেলা হচ্ছে, সেই দেশের পতাকা ওড়ানো এক বিষয়। খেলাকে উপলক্ষ করে অন্য পতাকা ওড়ানো হলে সেটা কেন করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে “‍জঙ্গি” ধারণার কথাও চিন্তা করতে পারে। এটা নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য বা হইচই করলেও উল্টো ফল হতে পারে। আমার মনে হয়, সরকারকে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করতে হবে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: নামেই ইনস্টিটিউট, প্রশ্ন মানে’। খবরে বলা হয়, ময়মনসিংহ মহানগরের পণ্ডিতপাড়া। সেখানকার একটি বহুতল ভবনে সাইনবোর্ড ঝুলছে ব্রিটিশ বাংলা ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাইনবোর্ডের লেখা অনুযায়ী সেখানে তিনটি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি কোর্স পড়ানো হয়। তবে ২৩ জুন সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটিরও কোনো কার্যক্রম বা ব্যক্তিকে দেখা যায়নি।

সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত যে ৩২১টি প্রফেশনাল কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে এটি সেগুলোর একটি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৫টি বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদি কোর্স রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করলেও অধিকাংশের মান নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান উচ্চ কোর্স ফি নিলেও যথাযথ শিক্ষা দিচ্ছে না।

শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট শুধু সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার দিকে যথেষ্ট নজর না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ বা ল্যাব সুবিধাও নেই। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সনদ পেলেও চাকরির বাজারে সুবিধা করতে পারছেন না। সংখ্যা বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের পাওয়া তথ্যের অনেকগুলোই হতাশাজনক। শিক্ষার নামে যারা ব্যবসা করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২৮৩টি কলেজে পড়ছেন প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩২১টি প্রফেশনাল কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ৩৫টি বিষয়ে প্রফেশনাল কোর্স রয়েছে। এসব কোর্সে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রফেশনাল কলেজ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে সারা দেশে আইন কলেজ রয়েছে ৭৪টি। বিএড কলেজ রয়েছে ৯২টি। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড বিবিএ ইনস্টিটিউট রয়েছে ৬২টি। বিপিএড (শারীরিক শিক্ষা) কলেজ রয়েছে ২৫টি, লাইব্রেরি সায়েন্স কলেজ ৩০টি, বিএসএড (বিশেষ শিশু শিক্ষা) কলেজ ৮টি, আর্ট কলেজ ৭টি এবং সংগীত কলেজ ২টি, ফটোগ্রাফি কলেজ একটি, স্পোর্টস কলেজ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং রাজশাহীতে একটি হোম ইকোনমিকস কলেজ রয়েছে। গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোর্স রয়েছে ১৪টি কলেজে। এ ছাড়া সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), মেরিন ফিশারিজ ইনস্টিটিউট, পুলিশ স্টাফ কলেজ এবং ফায়ার রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট।

দেশ রূপান্তর

‘সম্পর্কের চূড়ায় যেতে চায় বাংলাদেশ-চীন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চায়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের বর্তমান ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ আরও উন্নত করে একটি ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সমাজ’ যৌথভাবে গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছেন দুই দেশের নেতারা। তারা মনে করছেন, এমন ব্যবস্থা দুই দেশ ও জনগণের জন্য বেশি সুবিধা বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ ঘোষণায় এ সম্মতির কথা জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে গত ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফর শেষে দুই দেশের রাজধানী থেকে একযোগে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, দুই দেশ সম্পর্ক, অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়াবলি নিয়ে গভীর মতবিনিময় করেছে এবং একটি ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্যে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের প্রতি চীন সমর্থন জানিয়েছে।

দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের আলোচনার গতি বজায় রাখতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান বাড়াতে এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের জন্য একটি ব্যবস্থা স্থাপন করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২’ সংলাপের কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অথবা তাদের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

দুই দেশ নিজ নিজ মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোতে একে-অপরের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এক-চীন নীতির দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং স্বীকার করেছে যে, বিশ্বে চীন একটাই তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতা করে। চীন বাংলাদেশের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্বাধীন উন্নয়ন পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘করিডরের প্রস্তাব চীনের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শেষ দিন শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক সংযোগপথ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়ন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ব্রিকস সদস্যপদের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, তাঁর দেশ সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বজায় রেখেছে সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি।

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ কথা জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে তারেক রহমান ও শি জিনপিংয়ের ছবি দিয়ে এসব কথা লিখেছেন। তিনি আরও লিখেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবে পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীন তার অঙ্গীকার থেকে কখনো বিচ্যুত হবে না।

চীন সব সময় বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু, করিডরের প্রস্তাব চীনেভালো প্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। বৈঠকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থনের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকেও সমর্থন করেন।

দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক শেষে শুক্রবার সকালে চীনের গ্রেট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। এর মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন

Closing in 10s