মধ্যরাতে ডাক পেয়ে হঠাৎ কেন লাহোরে বুলবুল

মধ্যরাতে ডাক পেয়ে হঠাৎ কেন লাহোরে বুলবুল

ফন্ট সাইজ:

শনিবার মধ্যরাতে পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটু খুদে বার্তা পাঠিয়েই পাকিস্তানের বিমানে ওঠেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কিন্তু হঠাৎ কেন পাকিস্তানে গেলেন বিসিবি সভাপতি? পরিচালকদের উদ্দেশে দেয়া বার্তায় সেটি পরিষ্কার করেননি বুলবুল। শুধু জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে তিনি আইসিসি’র সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে আছেন। তারই অংশ হিসেবে লাহোরে যাচ্ছেন আইসিসি ও পিসিবি’র সঙ্গে বৈঠক করতে। বুলবুলের বার্তা অনুযায়ী পাকিস্তানে যেতে হবে, সেটাই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তান সফর সর্ম্পকে জানেন না সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ফারুক বলেন, ‘সভাপতি আমাকে রাতে ফোন করেছিলেন। আমি ধরতে পারেনি। ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সকালে দেখলাম বা শুনেছি সভাপতি গেছেন। তিনি তো বলেছেন আইসিসি’র কী একটা মিটিং করতে গিয়েছেন।’ বিসিবি’র একাধিক পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, রাতে গ্রুপে পাওয়া বার্তার সুবাদে তারা শুধু এটাই জানেন যে বোর্ড সভাপতি আইসিসি ও পিসিবি’র সঙ্গে সভা করতে লাহোরে গেছেন। কিন্তু কী নিয়ে সভা, সভায় বিসিবি সভাপতি কেন গেলেন, এ সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক এ বিষয়ে বলেন, ‘আপনি যে রকম জানেন বিসিবি সভাপতি লাহোরে গেছেন, আমিও সেটাই জানি। সভার পর উনি যোগাযোগ করলে বাকিটা জানবো।’ ওদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছেছেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাকে স্বাগত জানান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ফেসবুকে বুলবুলকে স্বাগত জানানোর একটা ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়েছে, যেটির ক্যাপশনে সালমান নাসিরকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।’ লাহোরে আইসিসি ও পিসিবি’র সভায় যোগ দেয়া ছাড়াও পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে আলাদা একটি সভা করার কথা বিসিবি বসের। পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সংসাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ নিয়ে আইসিসি’র একটি প্রতিনিধিদলের লাহোরে আসার কথা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। জানা গেছে, বিসিবি ও পিসিবি’র এই বৈঠকে অংশ নিতে আইসিসি’র দুজন কর্মকর্তাও লাহোরে হাজির হয়েছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য- পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট ইস্যু এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার পর তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতির সমাধান খোঁজ করা। এদিকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সামনে থাকায় দ্রুত সমাধানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে আইসিসি। সংস্থাটি ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে যে, ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বড় অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কাটা, এমনকি সদস্যপদ স্থগিত বা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ার স্বত্ব হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তবে আশার আলোও দেখা যাচ্ছে। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, পিসিবি আলোচনার পথেই সমাধান চাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নামলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে আইসিসি। তবে তাতে তো আর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হবে না বাংলাদেশের! এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করে দিয়েছে স্কটল্যান্ড। বিসিবি’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে পারে আইসিসি। সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ হতে পারে আর্থিকভাবে, হতে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসি’র ইভেন্ট আয়োজনের সত্ত্ব দিয়ে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের লাভের ভাগ দিতে পারে আইসিসি। ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব আইসিসির ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে পারে তারা। কিংবা ভিন্নভাবেও বাংলাদেশকে কোনো ‘সান্ত্বনা’ বা সমর্থনসূচক বিবৃতিও দিতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন