অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের মধ্যে প্রায় ১৬ মাসই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার সময়ে ফেডারেশনগুলো থেকে যোগ্য সংগঠকদের বিতাড়িত করে দায়িত্ব দেয়া হয় নতুনদের। যারা গত এক বছরে ক্রীড়াঙ্গনে কাজের চেয়ে আকাজটাই করেছেন বেশি। দায়িত্ব নিয়ে গতকাল এসব সংগঠকদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে কি করতে হবে সে বিষয়ে সবার কথা শোনেন। আমিনুল হক ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, এক বছরের কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সাতদিনের মধ্যে জমা দিতে। শুটিংয়ের নতুন অ্যাডহক কমিটি লেজেগোবরে অবস্থা করে ছেড়েছে সম্ভাবনাময় খেলাটিকে। আরচারি, কাবাডি, হকিতে চলছে অস্থিরতা। এর বাইরে অনেক ফেডারেশনে অন্তঃকোন্দলে ঠিকমতো খেলাটিই মাঠে নামাতে পারছে না। ঠিক এই অবস্থাতে ফেডারেশনগুলোর কাছে গত এক বছরের কাজের ফিরিস্তি চেয়ে আমিনুল বলেন, ‘ফেডারেশনের সকল কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছি কোথায় কি সমস্যা? গত এক বছরে আমাদের বাংলাদেশের স্পোর্টসের মূল্যায়ন সম্পর্কে আমি তাদের কাছ থেকে একটি রিপোর্ট চেয়েছি। এক বছরে আমাদের স্পোর্টসে কোথায় সফলতা ছিল, কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং কি কি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন ছিল, কি কি সুযোগ- সুবিধার অভাব ছিল- সবকিছু মিলিয়ে একটি মূল্যায়নের রিপোর্ট আমি আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রেরণ করতে বলেছি।’ ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে একটি সুন্দর স্বচ্ছভাবে করার জন্য উপজেলা থেকে শুরু করবো। আমরা সেই উপজেলা থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের নির্বাচন, বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে শেষ করে ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে চাই।’ কিছু কিছু ফেডারেশনকে একত্রে করার পরিকল্পনা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের প্রায় ৫১টি ফেডারেশন রয়েছে। সেই ৫১টি ফেডারেশনের ভেতরে আমরা কতোগুলো কাজ করছে, আর কারা মাঠে খেলা রাখতে পারছে না। তাদের কী কী সমস্যা রয়েছে, কেন খেলা চালাতে পারছে না। এসব নিয়ে কথা বলেছি। এ ছাড়া আমরা দেখেছি যে, একই ধরনের খেলা কয়েকটি ফেডারেশন রয়েছে। তো সেগুলোকে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মার্জ করে দেয়া যায় কিনা, সেটাও আমরা আলোচনা করছি। সো, এই বিষয়গুলো আমরা আস্তে আস্তে করে একটি একটি করে আলোচনার মাধ্যমে সেই কাজগুলো আমরা শেষ করতে চাই।’
ফেডারেশনগুলোর মূল সমস্যা অর্থ। সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেক ফেডারেশন অর্থের অভাবে ভালো করতে পারছে না। এই সমস্যা সমাধানে কিছু ব্যাংকে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে অ্যাড করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান নতুন এই ক্রীড়ামন্ত্রী। বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোতে আনার পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের’ একটি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘ক্রীড়া পরিষদ, আমাদের স্পোর্টস মিনিস্ট্রি এবং ফেডারেশন, আমাদের ক্রীড়া সাংবাদিক কিংবা আমাদের সাবেক খেলোয়াড় যারা রয়েছেন, সাবেক ক্রীড়া সংগঠক রয়েছেন, সবার সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসটি যেটি আপনাদের অনেকেরই মনে আছে, ৮০’র দশকে আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিনি নতুন কুঁড়ি একটি সাংস্কৃতিক একটি অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন যার মাধ্যমে পরবর্তীতে অনেকেই বিনোদন জগতে তারা অনেকেই সমৃদ্ধিশালী হয়েছিল। আমরা ঠিক নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এটি অনূর্ধ্ব ১২ থেকে ১৪ বছরের আমাদের যারা প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে প্রত্যেকটি তৃণমূলের পর্যায়ে তাদের নিয়ে আমরা এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসটি শুরু করবো। এবং সেখানে সকল স্পোর্টসেরই সমান সুযোগ থাকবে। প্রত্যেকটি ইভেন্টকে নিয়েই আমরা শুরু করতে চাই। এভাবে আমরা বাৎসরিক একটি ক্যালেন্ডার সরকারিভাবে আমরা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের যে খেলাধুলার যে ভবিষ্যৎ নিয়ে যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনাগুলো আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করতে পারবো।
