ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সরকারি ভাতার অর্থ আত্মসাতের একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অসাধু চক্র প্রকৃত ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে তাদের প্রাপ্য অর্থ অন্যের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করছে। এতে শত শত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাজসেবা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় পর্যায়ের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ভাতার কার্ড করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া হয়।
পরবর্তীতে আবেদনপত্রে থাকা প্রকৃত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নম্বর সংযুক্ত করা হয়। ফলে সরকারের পাঠানো ভাতার টাকা প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এ ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের দিকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই পদে বহাল থাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভাতার টাকা আত্মসাতের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের বাসিন্দা ফজিলা খাতুন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে তার প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতার জন্য নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলের নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা নিয়মিতভাবে অন্য একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সেই অ্যাকাউন্টটি পার্শ্ববর্তী মোক্ষপুর ইউনিয়নের রোকসানা খাতুন নামের এক নারীর নামে নিবন্ধিত। তবে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফজিলা খাতুন দাবি করেন, আবেদনপত্রে দেয়া তার প্রকৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে বর্তমানে সিস্টেমে থাকা নম্বরের কোনো মিল নেই। তার অভিযোগ, কারও যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ছেলের বকেয়া ভাতার টাকা ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন বহু ভুক্তভোগী উপজেলা সমাজসেবা অফিসে ভিড় করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হলে একটি বড় জালিয়াতি চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
