গত কয়েক বছর ধরেই বছরের দুই ঈদে সব থেকে বড় ও আলোচিত সিনেমাগুলো মুক্তি দেয়া এক প্রকার রীতিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দর্শকরা ঈদে সব থেকে বেশি ছবি দেখেন বলেই প্রযোজকরা চান তার সিনেমা যেন এই উৎসবেই মুক্তি পায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রোজার ঈদে মুক্তি পেয়েছিল পাঁচটি সিনেমা। এগুলো হলো- ‘প্রেশার কুকার’, ‘প্রিন্স’, ‘রাক্ষস’, ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। ঈদের ছবিগুলো বেশ আলোচনায় আসে সেগুলোর নানা বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। অন্যদিকে কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছে ৮ সিনেমা। এগুলো হলোÑ রকস্টার, রইদ, মালিক, বনলতা সেন, মাসুদ রানা, অফিসার, তছনছ ও পিনিক। এরমধ্যে ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘প্রিন্স’, ‘রকস্টার’ ‘রইদ ও ‘প্রেসার কুকার’ ছবিগুলো ছিল আলোচিত। তবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছাড়া কোনো সিনেমই এখন পর্যন্ত লগ্নীকৃত অর্থ ফেরত আনতে পারেনি। সেই সম্ভাবনাও তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
শাকিব খানের দুই সিনেমা ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’ নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও তার শিকিভাগও পূরণ হয়নি। বরঞ্চ সিঙ্গেল স্ক্রিনে পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারেনি এ দুই সিনেমা। দুই ঈদ মিলিয়ে তানিম নূরের তারকাবহুল সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। সিনেপ্লেক্সে কোরবানির ঈদের সিনেমার মাঝেও রোজার ঈদের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলেছে। যা এই সময়ে একটি বিরল ঘটনাই বটে! এদিকে এতগুলো বড় বাজেটের সিনেমা ব্যবসা করতে না পারায় প্রযোজকরাও পড়েছেন বেশ হতাশার মধ্যে। নতুন করে বিনিয়োগ করা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তারা। অন্যদিকে হল মালিকরাও নতুন করে ভাবছেন। বিশেষ করে সিঙ্গেল স্ক্রিনের হলগুলো।
এরমধ্যে ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হল কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এর কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। এই হলে শাকিবের ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’ চালিয়ে দর্শকমুখী করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত। শুধু মধুমিতাই নয়, সিঙ্গেল আরও কমপক্ষে ৭-৮টি হল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিঙ্গেল হল বন্ধ হলেও সে তুলনায় বাড়ছে না সিনেপ্লেক্সের সংখ্যাও। যার ফলে প্রযোজক-পরিচালকরা আরও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
