ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরির মাঠে ভেঙে পড়লেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা। পিএসজি তারকা লি কাং-ইনকে দেখা গেল অশ্রুসজল চোখে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে। দলটির ৩৩ বছর বয়সী পোস্টার বয় সন হিউং-মিন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, যেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ গোলের অভাবনীয় হারে এভাবেই বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘এ’-র দ্বিতীয় স্থান হাতছাড়া করলো দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে তৃতীয় স্থানের সেরা দলগুলোর জটিল সমীকরণের দিকে। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ৩২-এ যাওয়ার ৯৪ শতাংশ সম্ভাবনা এখনো তাদের আছে।
একটি ড্র করলেও শেষ ৩২-এ লস অ্যাঞ্জেলেসে কানাডার মুখোমুখি হতে পারতো দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে বিপুল কোরিয়ান প্রবাসীর উপস্থিতির কারণে ম্যাচটি তাদের ঘরের মাঠের মতোই মনে হতো। তবে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে কোচ হং মিউং-বোর এক সাহসী, কিন্তু বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। টটেনহ্যাম কিংবদন্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশেই রাখেননি তিনি!
মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) লস অ্যাঞ্জেলেসের হয়ে ফর্মে না থাকা সনকে নিয়ে ম্যাচের আগে কোচ হং বলেন, ‘প্রতিপক্ষের শারীরিক শক্তি কথা বিবেচনা করে সনকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলানোই দল এবং তার নিজের জন্য ভালো মনে হয়েছে। এজন্যই সে বেঞ্চ থেকে শুরু করছে।’
সনের পাশাপাশি অভিজ্ঞ উইঙ্গার লি জে-সংকেও বাইরে রেখে ওহ হিয়ন-গিউ, হুয়াং হি-চ্যান ও লি কাং-ইনকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজান কোচ। তবে মাঠে এই ত্রয়ী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরিয়ে সনকে মাঠে নামান কোচ। তবে তাতেও ভাগ্য বদলায়নি। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৯ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছেন সন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সর্বনিম্ন।
ম্যাচ শেষে ২০০২ বিশ্বকাপে কোরিয়াকে সেমিফাইনালে তোলা অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ হং ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘আমরা ভেবেছিলাম প্রতিপক্ষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন সনি ফাঁকা জায়গা তৈরি করে আক্রমণ করতে পারবে। আমরা তাদের দুর্বল মুহূর্তে সনিকে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপে দেখতে চেয়েছিলাম।’
তবে কোচের সেই পরিকল্পনা মাঠে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সনকে দলে রাখা বা না রাখা- কোনো অবস্থাতেই দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চেনা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না।
