দেশের ১৭টি সেবাখাতে খানা জরিপ করেছে দুর্নীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে টিআইবি জানায়, ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে পাসপোর্ট সেবা ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার ঢাকার টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ-২০২৫’ শীর্ষক জরিপ তুলে ধরে টিআইবি। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে টিআইবি জানায়, কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার বৈষম্যহীন, সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত, সম-অধিকারভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়, ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫ সালে জরিপের আওতাভুক্ত সেবাখাতে সার্বিকভাবে দুর্নীতি বেড়েছে।
খানা জরিপ ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫ সালে জাতীয়ভাবে দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার বৃদ্ধি পেয়েছে (যথাক্রমে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ); ২০২৩-এর মতোই খানা জরিপ ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হয়েছেন পাসপোর্ট ও বিআরটিএ থেকে সেবা নিতে গিয়ে। টিআইবি বলছে, ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫ সালে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে; খানা জরিপ ২০২৫-এ গড় ঘুষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যথাক্রমে বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা, ব্যাংকিং ও ভূমি খাতে। খানা জরিপ ২০২৫-এ জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ দশমিক ২ কোটি টাকা, যা ২০২৩-এর তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
টিআইবি জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবায় দুর্নীতি ও ঘুষের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে, যা সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা। অন্যদিকে কৃষি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ’র মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষ বৃদ্ধি পেয়েছে বা একইরকম রয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক সেবাপ্রাপ্তির অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। টিআইবির জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ৬৬ শতাংশ খানা ঘুষের শিকার হয়েছে।
শহরাঞ্চলে শিকার হয়েছেন ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলের খানাগুলোকে বেশি পরিমাণে ঘুষ দিতে হয়েছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে। সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়, যা নিম্ন আয়ের খানার ওপর অতিরিক্ত বোঝার সৃষ্টি করছে। সেবা নিতে গিয়ে দেশের জনগণ ঘুষ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাববিস্তারসহ নানা বিষয়কে জরিপের আওতায় এনেছে টিআইবি।
