আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘আ.লীগ নিয়ে নমনীয়, সতর্ক বিএনপি’। খবরে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত করা নির্বাচনী বিধিমালায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির নেতাদের মত দুই রকম। তাঁদের একাংশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা নমনীয়, আবার সতর্কও। তবে অন্য নেতারা বলছেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আসলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাফল্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে প্রস্তুতি শুরুর পাশাপাশি কৌশলও ঠিক করছে বিএনপি। ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এড়াতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে।
সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আভাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাজেটের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই নির্বাচনগুলো হবে, যার মধ্যে প্রথমে ইউপি নির্বাচন হতে পারে।
এমন আভাসের পর রাজনৈতিক দলগুলো ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনী বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে। এই বিধিমালায় কোনো দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার কোনো বিধান রাখা হয়নি। বিধিমালায় দলীয় প্রতীকহীন এই নির্বাচনে যোগ্য যে কারও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালার এই বিধানকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে মাঠে নামার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানায়, বিধিমালার প্রস্তাবনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, এই মর্মে ইসির তৈরি করা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। এই বিধান ইসির চূড়ান্ত করা বিধিমালায় রাখা হয়নি। চূড়ান্ত করা বিধিমালা এখনো পাস হয়নি। ইউপির পর পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনেরও বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে নতুন আইন অনুযায়ী। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতায় একই বিধান বহাল রাখা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে মাঠে নেই। ইসির চূড়ান্ত করা এই বিধিমালা পাস হলে যোগ্য যে কারও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে। নির্দলীয় এই নির্বাচনে সেই সুযোগ আওয়ামী লীগের কত নেতা-কর্মী নেবেন, তা নিশ্চিত নয়। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মানুষের ধারণার বদল না হওয়ায় স্থানীয় অনেকে মাঠে নামবেন না। হাতে গোনা কয়েকজন প্রার্থী হতে পারেন।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগের বিষয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে দুই রকম মত আছে। একপক্ষ এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হলেও সতর্ক। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা এক নেতা এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মানসে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আসতে চাইলে বিএনপির কোনো সমস্যা নেই। কোনো বাধাও দেবে না। তবে রাজনীতির নোংরামির চিন্তা বাদ দিয়ে আসতে হবে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের মাঠে এসে কেউ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
অবশ্য বিএনপির নেতাদের বড় একটি অংশই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেখছেন না। তাঁদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশ নেওয়ার বাস্তব কোনো সুযোগই নেই। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের নির্বাচনে আসার চেষ্টা অবাস্তব বা দুরাশার শামিল। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী এখন জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও গণধিক্কৃত। দলটির শীর্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কেউ জোরপূর্বক বা ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগের বিষয়টি বিএনপি কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পচন ধরেছে। সেখানে ক্লিন ইমেজের কোনো লোক আছে—এমন তো আমরা দেখি না। আওয়ামী লীগের ভেতর এখন আর ভালো বা গ্রহণযোগ্য কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট নেই।’
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচনেও ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ অবস্থায় আগেভাগেই সতর্ক হয়ে মাঠপর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর জটিলতা এড়ানোর কৌশল ঠিক করছেন তাঁরা।
বিএনপির সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শীর্ষ পদগুলোতে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এড়াতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। গত কোরবানির ঈদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শোডাউনের পর মাঠপর্যায়ের নানা হিসাবনিকাশ কষছেন দায়িত্বশীল নেতারা। একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে তৃণমূল থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে পুরোদমে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা একাধিক নেতা জানান, ফ্যাসিবাদী আমলে যাঁরা রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং এলাকায় যাঁদের জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাঁদেরই সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। বিএনপি সরকারে থাকায় বর্তমানে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয়। তবে কোন্দল এড়াতে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার আগেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ শেষ করতে চায় দল।
কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না পেলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার-ফেস্টুন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঘোষিতভাবে প্রচার শুরু করেছেন। সিটি করপোরেশনে নিযুক্ত দলীয় প্রশাসকদের অনেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছি। আশা করি দল থেকে আমাকে মূল্যায়ন করা হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছি, আগে থেকে প্রস্তুতি রাখছি। প্রত্যাশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রস্তুতি নিয়েও বিএনপিতে অস্বস্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির আগাম প্রস্তুতি বিএনপিকে কিছুটা অস্বস্তির মুখে ফেলেছে। জামায়াত প্রায় এক বছর আগে থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে কাজ শুরু করেছে। বিপরীতে প্রায় প্রতিটি এলাকায় বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী তোড়জোড় শুরু করায় কর্মীদের মধ্যে একধরনের অনৈক্য বা পক্ষ নেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঠেকাতে পারলে এবং নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিএনপির জয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।
প্রথম আলো
‘বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সম্পর্কে অগ্রাধিকার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম চীন সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এবার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ঢাকা ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে এমন ধারণা দিয়েছেন।
ঢাকার কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ঘুরে এখন চীনে রয়েছেন তারেক রহমান। এ চীন সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আগ্রহ রয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে চীনকে নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট এ সফর ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের সফরে চুক্তি, সমঝোতা স্মারকসহ ১৫ থেকে ১৭টি দলিল সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার কূটনীতিকেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর অন্যান্য শীর্ষ নেতার সফরের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। অতীতের সফরগুলোয় আর্থিক সহায়তা, প্রকল্পে অর্থায়ন, চুক্তি ও সমঝোতায় জোর থাকত। এবার দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বেইজিংয়ে ব্যস্ত দিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে আজ দিনের শুরুতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। তিনি চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।
পরে চীনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ ও চায়নাট্যাক্স করপোরেশনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করবেন। এদিন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইসিং, চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডকা) চেয়ারম্যান চেন শিয়াওডং ও এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিডা আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনে বেসরকারি পর্যায়ে কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর চীনের শীর্ষ তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের নানা খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিডকা ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট প্রকল্প এবং বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে চীনের দুই অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হবে।
দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক
আজ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী ঘণ্টাখানেক আলোচনা করবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে মূলত বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দুই পক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে। আলোচনায় বহুল আলোচিত তিস্তা বৃহদায়তন প্রকল্প, চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ জিডিআইয়ে বাংলাদেশের যুক্ততার বিষয়গুলো আসবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের পাশাপাশি ভূরাজনীতি ও ভূকৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘উচ্চ করে নাকাল ব্যবসা-বাণিজ্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের গড় আমদানি শুল্ক ও করপোরেট করহার-দুটোই বেশি। এর সঙ্গে নীতি ধারাবাহিকতার অভাব, ব্যবসার লাইসেন্স-পারমিট গ্রহণে জটিলতা, বন্দর-কাস্টমস-আয়করসহ সরকারি অফিসের ঘুস-দুর্নীতি বিনিয়োগকারীদের ‘গোদের ওপর বিষফোড়ার’ মতো যন্ত্রণা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশি বিনিয়োগকারীরা কোনোরকমে নিশ্বাস নিচ্ছেন, হাঁপ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। আর বিদেশি বিনিয়োগের অবস্থা ক্রমেই নিম্নমুখী। তবে বিদ্যমান এমন পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকার কোনোভাবে দায়ী নয়। অতীতের সরকারের ভুলে খেসারতে দিতে হচ্ছে পুরো জাতিকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা সরকারকে এই বাজেটের মধ্য দিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। যুগান্তরকে এমনটি জানিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের কাঁচামাল আমদানি থেকে উৎপাদন এবং বিপণনের প্রতিটি ধাপে এত ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। করনীতি ও কর-কাঠামো যেখানে হওয়া উচিত ব্যবসাবান্ধব, সেখানে বাংলাদেশে করনীতি শোষণমূলক। এখানে ব্যবসাকে সহায়তা করার পরিবর্তে রাজস্ব আদায়কে কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আর এ কারণে কর কর্মকর্তারাও কর আদায়ে জুলুম করতে বাধ্য হন। এতে একধরনের অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতিও বাড়ে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যমতে, বাংলাদেশের গড় শুল্কহার ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের গড় শুল্কহার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ আর কম্বোডিয়ার ১০, লাওসের ৮ দশমিক ৭, পাকিস্তানের ১০ দশমিক ৩ এবং শ্রীলংকার ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতের গড় শুল্কহার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি, ১৭ শতাংশ। এর প্রধান কারণ-ভারত অভ্যন্তরীণ কৃষি ও কিছু নির্দিষ্ট উৎপাদনশীল খাতকে উচ্চ শুল্ক সুরক্ষা দেয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের নন-লিস্টেড কোম্পানির করহারও অনেক। বাংলাদেশের করপোরেট করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ; যেখানে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওসের ২০, আর ভারতের ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশের চেয়ে করপোরেট কর বেশি পাকিস্তান ও শ্রীলংকার; যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ শতাংশ। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) টানার ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি ও সুনীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন শিল্প খাতকে উৎসাহিত করতে শুল্ক-করছাড় ও রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। করনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা রয়েছে। একই সঙ্গে করহার কমানোর অঙ্গীকারও রয়েছে, যা ইতিবাচক।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কর্মসংস্থান। আমরা করনীতি এমনভাবে সাজাতে চাই, যাতে নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা এবং নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, নতুন বাজেট অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তার বিকাশ এবং উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা হবে। এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত এবং তরুণ ও নারীদের জন্য সৃষ্টি করা হবে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
কালের কণ্ঠ
শিখন ঘাটতিতে ‘ডাক্তারি’ ডিগ্রি-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ডাক্তার হয়ে যাঁরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবেন, তাঁদের অনেকেই পাচ্ছেন না ডাক্তার হওয়ার উপযুক্ত শিক্ষা। বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের অনেকে ‘ডাক্তারি পড়ে’ সেশনও শেষ করে ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পথে।
বের হলেই তাঁদের নামের আগে বসবে ‘ডাক্তার’ তকমা। কিন্তু শেষ বেলায়ও তাঁরা ডাক্তারি করার হাতে-কলমে শিক্ষা পাননি বলে এন্তার অভিযোগ। একটি-দুটি নয়, অনেক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। কর্মজীবনে তাঁরা মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেবেন অথচ নিজেরাই শেখেননি অনেক কিছু! স্পর্শকাতর এমন ঘটনার কথা জানা যায় ওই সব মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
৩৭টি মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক অধ্যাপক মাত্র একজন। নেই পর্যাপ্ত অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকও। অবকাঠামোসহ নানা সংকটে যেখানে পুরনোগুলোই চলছে না, সেখানে নতুন করে আরো ছয়টি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদনের পরিকল্পনা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পাঁচ বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজে পড়ছেন সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখনো তাঁদের নিজস্ব কোনো শিক্ষণ হাসপাতাল নেই। ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে সপ্তাহে দুই দিন যেতে হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হাতে-কলমে চিকিৎসাশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি চলছে ধার করা অবকাঠামোয়।
একাধিকবার আন্দোলনের পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় গত রবিবার আবারও রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। হাসপাতাল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যালের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিজস্ব হাসপাতাল পাচ্ছি না। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ড সুবিধা না থাকায় আমরা বাস্তব জ্ঞান থেকে পিছিয়ে আছি। এক বছরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।’
সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের এই চিত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নেত্রকোনা, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও রাঙামাটি—এই সাতটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পরও নিজস্ব ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল পায়নি। কক্সবাজার, পাবনা, যশোরসহ আরো কয়েকটি কলেজও হাসপাতাল সংকটে রয়েছে। অনেক কলেজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা পুরনো ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ১৫০ শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত মিলনায়নত ও শ্রেণিকক্ষে ২৫০ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে’। খবরে বলা হয়, আগামী অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আসবে মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ভ্যাটের নতুন উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভ্যাটের 'সুনির্দিষ্ট কর' আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ১৬ ধরনের ব্যবসার নাম উল্লেখ করেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ছোট ব্যবসা থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার বর্তমানে প্রচলিত বিক্রির ওপর কর বা টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কর আদায় করবে। কোন ব্যবসার ওপর কত কর দিতে হবে, তা এলাকাভেদে নির্ধারণ করে বিধিমালা জারি করবে এনবিআর। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ হতে পারে বছরে এক, পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা। সংস্থাটি বর্তমানে এ বিষয়ে সারাদেশে জরিপ করছে কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর সুনির্দিষ্ট করের যে চাপ, তা শেষমেশ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী? গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল?
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে ১৬ ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এগুলো হলো- মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিন-রড-সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচারের দোকান, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্নের দোকান এবং রেস্টুরেন্ট।
ইত্তেফাক
‘নিয়োগ হচ্ছে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশ থেকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম ধাপে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম এবং শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গতকাল বুধবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা দেবে। পরবর্তী সময়ে এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গোপনে জটিল পদ্ধতিতে অর্থপাচার হয়, পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ নিরূপণ কঠিন
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিভিন্ন জটিল পদ্ধতি অবলম্বন করে বিদেশে পাচার করা হয়। এ বিষয়ে দেশে বা বিদেশে সঠিক, পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদনের অভাবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে সেটির প্রকৃত ও সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন।
প্রশ্নকর্তা মাছুম মোস্তফা তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অবৈধভাবে পাচারকৃত টাকার মোট পরিমাণ কত? কী পরিমাণ টাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তা কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে?
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে—২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। এই অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ বাংলাদেশের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রফতানি ও রেমিট্যান্স আয়ের এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ, বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয়ের প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ, নিট বৈদেশিক সহায়তা এবং এফডিআই প্রবাহের প্রায় দ্বিগুণ।
দি দোকান, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায় ভ্যাট বসবে
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হলে আগামী মাস থেকে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) আওতায় আসবে মুদি দোকান, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা।
সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল—বিগত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল? নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উত্সকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কি না? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উেসর তালিকা কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় ছিল এক লাখ ৪১ হাজার হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ১৬ ধরনের ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের আছে। এগুলো হলো—মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিকের সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য ও জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্ণিচারের দোকান, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘মধ্যবিত্তে করের বোঝা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাসেল আহমেদ, চাকরি করেন বেসরকারি একটি ব্যাংকে। ১০ লাখ টাকার করযোগ্য আয়ের ওপর চলতি অর্থবছরে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতেন। আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন কাঠামোয় তাকে প্রায় ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা কর দিতে হবে। অর্থাৎ করের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে প্রায় ১১ হাজার ২৫০ টাকা, যা শতকরা হিসাবে ৩০ ভাগ। একইভাবে ১৫ লাখ টাকা করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায়, যা প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি যেখানে ১০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে আয় বাড়েনি। উপরন্তু বাড়তি কর পরিশোধ করতে হবে ৩০ শতাংশ। এর ফলে জীবন ধারণ ব্যয়, পরিবার ও সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে জোগান দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে। পাশাপাশি সঞ্চয়/নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করে করযোগ্য আয়ের ওপর কর রেয়াত নেয়া অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
রাসেল আহমেদের মতো বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীকে কঠিন জীবন ধারণ করতে হবে প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে। তারা জানিয়েছেন, জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬-এ ব্যক্তি-শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবকে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তির পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বাজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ বলছে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও নতুন কর কাঠামোর কারণে বেসরকারি চাকরিজীবী, পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের বড় একটি অংশকে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। ফলে অনেকের কাছেই এই বাজেট ‘কর ছাড়ের ঘোষণা, কিন্তু করের বোঝা বৃদ্ধির বাস্তবতা’ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সরকারের ঘোষণায় করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রথম দৃষ্টিতে এটি করদাতাদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে হলেও করের স্তর ও হার পরিবর্তনের কারণে বাস্তবে এর সুফল অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। নতুন কাঠামোয় করযোগ্য আয়ের প্রথম ধাপ এক লাখ টাকার ওপর করহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর করহার ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ করমুক্ত সীমা সামান্য বাড়ানো হলেও করযোগ্য আয়ের ওপর করের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বেসরকারি চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। কারণ দেশের অধিকাংশ বেতনভোগী কর্মী এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষায় খরচ এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আর্থিক চাপে রয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি এখনো প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে; কিন্তু বেসরকারি খাতে অধিকাংশ কর্মীর বেতন বৃদ্ধি সেই হারে হয়নি। ফলে বাস্তব আয় কমে যাওয়ার এই সময়ে করের বোঝা বৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলবে।
দেশ রূপান্তর
‘ফ্ল্যাটের স্বপ্নে করের কাঁটা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রায় এক যুগ আগে চার বন্ধু মিলে রাজধানীর ত্রিমোহনী এলাকায় ৬ কাঠার একটি ছোট জমি কিনেছিলেন। ইচ্ছা ছিল নিজেরাই বাড়ি তৈরি করে ভাগাভাগি করে নেবেন। কিন্তু সামর্থ্যরে বাইরে থাকায় তা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নেন কোনো ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে ভবন তৈরি করবেন। চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া নিজেদের ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে অন্তত শেষ বয়সটা কাটিয়ে দিতে পারবেন।
বছর দুয়েক আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও করেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ড্যাপের উচ্চতা খড়্গ। রাজউক থেকে জানানো হয়, এ জমিতে ৭ তলার ওপর ভবন করা যাবে না। এতে জমির মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানি উভয়ে বিপদে পড়ে। পরে আইনি নানা ঝামেলা পার করে ১০ তলা পর্যন্ত নকশা অনুমোদন করিয়ে নেন। এরপর বেড়ে যায় রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম। সব জটিলতা কাটিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু হলেও জমির মালিকদের কপালে নতুন চিন্তার ভাঁজ। এবার নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বা আইনি কোনো জটিলতা নয়, বাজেটে নতুন করে আরোপ করা করের বোঝা যেন বয়সের শেষ প্রান্তে আসা মানুষগুলোকে ন্যুব্জ করে দিয়েছে।
আলাপকালে অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা হামিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে বিল্ডিং নির্মাণের জন্য নানা জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। একের পর এক সমস্যা এসে সামনে দাঁড়ায়। একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর ভেবেছিলাম সারাজীবনের স্বপ্ন অন্তত মৃত্যুর আগে হলেও পূরণ হচ্ছে। কিন্তু এ বাজেটে জমির মালিককেও ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে। এত টাকা কোথায় পাব?’
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এটা স্রেফ জুলুম। আমরা একটা করে ফ্ল্যাট পাব। ফ্ল্যাটগুলো নিজে ব্যবহার করব। এরপরও যদি ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে আর কোথায় যাব? শুধু হামিদুর রহমান বা তার তিন বন্ধু-ই নয়, করের বোঝার চাপে পড়েছেন এমন হাজারো জমির মালিক। যারা এখনো চুক্তি করেননি তাদের ভাবনা আরও বেশি।
আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন কর প্রস্তাব ভাবনায় ফেলেছে এমন হাজারো জমির মালিককে। নির্মাণকাজ শুরুর আগেই সাইনিং মানি বা ফ্ল্যাটের মূল্যের বিপরীতে বড় অঙ্কের করের বোঝা বহনের হিসাব কষতে হচ্ছে। এমন হিসাবের জালে আটকে যাচ্ছে অনেক মানুষের স্বপ্নের আবাসন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থাবর সম্পত্তি লেনদেনে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, ডেভেলপারকে জমি দেওয়ার বিনিময়ে জমির মালিক নগদ অর্থ, সাইনিং মানি, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত ভাড়া সুবিধা বা আর্থিক মূল্যসম্পন্ন অন্য যেকোনো সুবিধা পেলে তা ‘মূলধনী মুনাফা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। জমির আদি অর্জনমূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
অর্থ বিলের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, কোনো জমির মালিক যদি ডেভেলপারের সঙ্গে যৌথ চুক্তিতে যান, তবে তার প্রাপ্ত সব সুবিধাকেই মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হবে।
একজন জমির মালিক জমি দেওয়ার বিনিময়ে ৬০ লাখ টাকা নগদ (সাইনিং মানি) এবং দুই কোটি টাকা দামের দুটি ফ্ল্যাট পেলেন। অর্থাৎ তিনি মোট দুই কোটি ৬০ লাখ টাকার সুবিধা পেলেন। এখন তার জমিটি যদি আগের কেনা থাকে ৬০ লাখ টাকায়, তবে তার লাভ বা মুনাফা হলো ১ কোটি টাকা। নতুন নিয়মানুযায়ী, এ লাভের ওপর তাকে ১৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে।
নতুন ভবন তৈরি হওয়ার সময় (ধরা যাক ৩ বছর) জমির মালিক যদি প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পান এবং পরে আড়াই কোটি টাকা দামের ৫টি ফ্ল্যাট বুঝে নেন, তবে তাকে কয়েক ধাপে কর দিতে হবে। প্রথমত প্রতি বছর ওই ভাড়া বাবদ আয়ের ওপর নিয়মিত ট্যাক্স দিতে হবে। দ্বিতীয়ত ফ্ল্যাটগুলো বুঝে পাওয়ার সময় বড় অঙ্কের কর দিতে হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যদি তিনি ওই ফ্ল্যাটগুলো আরও বেশি দামে বিক্রি করেন, তখন বাড়তি লাভের ওপর আবারও কর দিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘অলস ২৩ হাজার কোটির বিনিয়োগ’। খবরে বলা হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা নির্মাণ শেষ হলেও গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় দেশের শিল্প খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের আশ্বাসে বিনিয়োগ করলেও সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে, অন্যদিকে ঋণের সুদের চাপ বহন করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত কাচ ও রড তৈরির দুটি কারখানার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে যথাক্রমে আড়াই বছর ও দেড় বছর আগে। তবে এখনো গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। এমজিআই সূত্র জানায়, সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসলাইনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। কিন্তু এখনো গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থে কারখানা দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। বিদেশি ঋণ পুনঃতফসিল বা সুদ মওকুফের সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট সাতটি কারখানায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্যাসের অভাবে পুরো প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
প্রতিশ্রুত সংযোগের অপেক্ষায় ৫৫০ প্রতিষ্ঠান : পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসসহ দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে শিল্প সংযোগের জন্য বর্তমানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়। এসব প্রতিষ্ঠান সংযোগ ফিও জমা দিয়েছে, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসসংযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্যাসসংযোগ দিতে না পারলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় অবস্থিত এমজিআইয়ের ৩৬১ একর আয়তনের অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাচ ও রড কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। কারখানার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন নির্মাণও শেষ হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমজিআইয়ের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) সুমন চন্দ্র ভৌমিক গণমাধ্যমকে বলেন, সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সহযোগীদের খবর
আ.লীগ নিয়ে নমনীয়, সতর্ক বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ২০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

আব্দুল হালিম
৪০ মিনিট আগেবিএনপির যদি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা নমনীয় হয়, তাহলে সাধারণ ও নিরপেক্ষ মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। কারণ আওয়ামী শাসনের নির্যাতনের কথা সাধারণ মানুষ এখনো ভুলে নাই।