রাষ্ট্রায়ত্ত অলাভজনক চিনিকলগুলোর জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তোলা এবং ধীরে ধীরে আখের পরিবর্তে সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। দেশের চিনি শিল্পকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার রাজধানীর পল্টনে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও অর্জন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে বর্তমানে ৯টি চালু আছে, বাকি ৬টি বন্ধ। তবে চালু থাকা মিলগুলোর বেশির ভাগই লাভজনক নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লাভ করে মূলত তাদের ডিস্টিলারি ব্যবসা থেকে, চিনি উৎপাদন থেকে নয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের চিনিকলগুলো ৬০-৭০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখনকার বাস্তবতা আর বর্তমান বাস্তবতা এক নয়। আখ চাষে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে, অথচ মিল চলে মাত্র তিন মাস। বাকি সময় কারখানা অব্যবহৃত পড়ে থাকে। এভাবে একটি কারখানা সারা বছর ধরে টিকিয়ে রাখা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, এখন একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব। সেখানে ১৪ মাস জমি আটকে রেখে আখ চাষ করাও কৃষকদের জন্য লাভজনক নয়।
এ পরিস্থিতিতে কিছু চিনিকলকে সুগার বিটভিত্তিক কারখানায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে আখ থেকে চিনির আহরণ হার (রিকভারি রেট) গড়ে ৫ শতাংশ, যেখানে বিশ্ব গড় প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে সুগার বিট থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত চিনি পাওয়া সম্ভব এবং এটি উৎপাদনে সময় লাগে সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাস।
মন্ত্রী বলেন, সুগার বিট চাষ করলে কৃষকরা বছরের বাকি সময়ে একই জমিতে অন্য ফসলও উৎপাদন করতে পারবেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, কয়েকটি চিনিকলের অব্যবহৃত বিস্তীর্ণ জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হবে।
তিনি বলেন,‘আমাদের লক্ষ্য পুরনো কারখানাগুলো যেকোনো মূল্যে চালিয়ে যাওয়া নয়; বরং নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’
সেমিনারে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এসব কারখানা লাভজনক হলেও গ্যাসের অভাবে অনেক সময় বন্ধ থাকে। ফলে বিদেশ থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে সার আমদানি করতে হয়।
তিনি বলেন, সার কারখানাগুলোর জন্য আলাদা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে সারা বছর উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে এবং সার আমদানির প্রয়োজন অনেক কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (করনীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন। ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সঞ্চালনা করেন।
