দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নতুন একটি জাতীয় নীতি কাঠামো (ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক সম্পর্ক আরও সমপ্রসারণ হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে।
প্রস্তাবিত জাতীয় নীতি কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সহজ হবে। এর ফলে ডুয়াল ডিগ্রি, জয়েন্ট ডিগ্রি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নীতিমালার মাধ্যমে খরচও কমে আসবে শিক্ষার্থীদের। নীতিমালার অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘টু প্লাস টু’ মডেল। এই মডেলে শিক্ষার্থীরা প্রথম দুই বছর বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরবর্তী দুই বছর অংশীদার বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন। কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করলে তারা উভয় প্রতিষ্ঠানের পৃথক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।
বুধবার ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বৃটিশ হাইকমিশন ও বৃটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করছেন উচ্চশিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ ও ফুলব্রাইট স্পেশালিস্ট ড. গ্রেস মুকুপা। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ইউজিসি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং বৃটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তথ্যমতে নীতিমালা তৈরির পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম বাড়লে বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকরা আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
গবেষণা তহবিল, প্রযুক্তি ও আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র্যাংকিং উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা গেলে দেশের শিক্ষা খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, ডিগ্রির গুণগত মান নিশ্চিত করা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, উচ্চশিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
