১১ বছর ধরে মামলার বোঝা, আগাম জামিনের আশায় হাইকোর্টে ৯৬ জন

১১ বছর ধরে মামলার বোঝা, আগাম জামিনের আশায় হাইকোর্টে ৯৬ জন

ফন্ট সাইজ:

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের শেষ দিকে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই ব্যক্তি। ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় বিপুলসংখ্যক মানুষকে। প্রায় ১১ বছর পরও সেই মামলার ভার কাঁধে নিয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেকেই। বুধবার আগাম জামিনের আশায় হাইকোর্টে হাজির হন ওই মামলার ৯৬ জন আসামি।

মো. আব্দুর রশিদ (৪৫), পেশায় একজন চা বিক্রেতা। তিনি একজন এ মামলার একজন আসামি। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, ‘আমি এই মামলায় দীর্ঘ সময় জেলে ছিলাম। আজকে আমরা ৯৬ জন আগাম জামিন নিতে এসেছি। পুলিশ বাদি হয়ে এই মামলা করেছিল। কিন্তু যে দু’জন মারা গেছেন—আশরাফ মীর ও এসহাক—তারাও এই মামলার আসামি। তারা আবার একে অপরের শ্যালক-সমন্ধী ছিলেন। এত বছর ধরে মামলার কারণে আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। কখন আবার গ্রেপ্তার হতে হয়, সেই আতঙ্ক সবসময় কাজ করে। আমরা শুধু চাই আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার হোক।’

মামলার আরেক আসামি সাহেব আলী সর্দার। তিনি মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরুল হায়দার। তিনি যদি আমাদের আগাম জামিন করিয়ে দিতে পারেন, তাহলে আমরা অন্তত শান্তিতে বাড়ি ফিরে একটু ঘুমাতে পারবো।’

তার কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যাকে পেয়েছে তাকেই আসামি করেছে। ফলে অনেক নিরপরাধ মানুষও এই মামলার আসামি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে আমরা আদালত, মামলা আর আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের পরিবারগুলোও এই মামলার বোঝা বহন করছে।’

আদালতপাড়ায় উপস্থিত আসামিদের অনেকের দাবি, একটি স্থানীয় বিরোধের ঘটনায় গণহারে মানুষকে আসামি করায় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে আইনি সুরক্ষা পেলে অন্তত দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমবে।

১১ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই সংঘর্ষের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরছে অনেককে। তবে আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে আসা এসব মানুষের চোখে ছিল একটাই প্রত্যাশা—আইনের আশ্রয়ে ফিরে পাওয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ।

Anwarul Azam

২ ঘন্টা আগে

মামলা বড় নাকি মানুষ বড়ো। ১১ বছর ? আর কত।।

মন্তব্য করুন