বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলামকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বুধবার সংসদে এক লিখিত উত্তরে এ তথ্য জনিয়েছেন।
দেশটির সংবাদ মাধ্যম মালয় মেইলের বরাতে জানাগেছে, সংসদ সদস্যদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামকে প্রত্যর্পণের জন্য এখনো মালয়েশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ জমা পড়েনি। ফলে এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়নি।
প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। তবে বিদ্যমান আইনের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো দেশের অনুরোধ বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক। আনুষ্ঠানিক আবেদন না থাকায় বর্তমানে আমিনুল ইসলামকে ঘিরে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে কোনো কার্যক্রম চলমান নেই।
উল্লেখ্য, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচিত বেস্টিনেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অতীতে অস্বীকার করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমিনুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন গ্রহণ করেনি।
