নেত্রকোণার আটপাড়ায় জলমহাল ইজারায় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের দু’টি জলমহালের ইজারায় এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী বিতাড়িত জেলেরা। ২০২৪ এর ৯ই অক্টোবর বিতাড়িত জেলেরা দখল চেয়ে আবেদন করলেও ২০২৬-এ এসেও দখল না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে সরজমিন পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ৩ বছরের জন্য ইজারা নেয়া হয় কুমারিয়া খাল ও গাইনা বিল। শুরুতে কয়েক বছর ঠিক থাকলেও ৫ই আগস্টের পর সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন লুনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন রফিক।
ভুক্তভোগী জেলেদের দাবিÑ রফিক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সর্বশেষ জলমহাল দু’টি সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নামে ইজারা নেয়া হলেও নুর মিয়া, কামাল মিয়া, রাহুল ইসলাম, নওয়াব মিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রকৃত জেলেকে বিতাড়িত করেন। সমিতির সদস্য হয়েও ইজারায় অংশ নিতে না পেরে এবং জলমহালের দখল না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই জেলেরা। ইজারা থেকে বিতাড়িত জেলে নওয়াব আলী জানানÑ চাঁদাবাজ ও দখলবাজ পুতুল বেপারী, সুলতান মিয়া, নয়ন মিয়া এবং নুর ইসলাম গং মিলে গত দুই বছর ধরে অবৈধভাবে জলমহাল দু’টি ভোগদখল করছে। অথচ এরা সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য নয়। তারা সরাসরি বিএনপি’র রাজনীতি এবং পদে থাকায় আমরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছি না। জলমহাল দু’টি আমাদের সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ৩ বছরের জন্য ইজারা নেয়া হলেও আমরাই সেখানে অবহেলিত। বারবার প্রশাসনকে সমিতির বৈধ সদস্যদের কাছে জলমহালের ইজারা বুঝিয়ে দিতে বললেও তারা আমাদেরকে দখল বুঝিয়ে দেননি। তিনি আরও জানান- দখলদাররা আটপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মাসুম চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।
আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ইজারাকৃত জলমহাল আমরা প্রকৃত জেলেরা দখল ফেরত চাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে লুনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মেসেজ দিলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সুখময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জলমহাল ইজারা নেয়ার পর দখল বুঝিয়ে না দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সরকারি নিয়ম মেনে ওই সমিতিকে ইজারা বুঝিয়ে দিয়েছি। সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির নামে জলমহাল দু’টি ইজারা নিলেও সোনালী মৎস্যজীবী সমিতির প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে জেলে নয় এমন লোকজন জলমহালটি দখল করে রেখেছেÑ এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এমনটি হলে সমিতির লোকজন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
