দিন বদলের সঙ্গে বদলিয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা। উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার, পরিবর্তন হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থায়। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দুর্গম চরবাসীর জীবনমানের। এখনো পায়ে হেঁটে, অথবা গরু বা ঘোড়ার গাড়িতে করে তাদের যেতে হয় উপজেলা ও জেলা শহরে। শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় স্কুলে। বন্যা বা বর্ষায় সে পথও হয়ে যায় রুদ্ধ। ব্রিজের অভাবে এখনো তারা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। আশ^াস মিললেও দীর্ঘ ৫৪ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি প্রতিশ্রুতির।
দৌলতপুর উপজেলা শহর থেকে ৩০ কিমি. দূরে অবস্থিত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন। পদ্মা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এখানকার লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা এখনো রয়েছে পুরোনো ধারায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে এখনো তাদের গরু-মহিষ বা ঘোড়ার গাড়িতে চলাচল করতে হয়। বর্ষা বা বন্যায় নৌকা হয়ে উঠে তাদের একমাত্র যোগাযোগের বাহন। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিপণ্য বিপণনে পিছিয়ে রয়েছেন অবহেলিত জনপদের মানুষগুলো। পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলের মানুষের যুগোপযোগী হতে প্রয়োজন ভাগজোত ও সুকার ঘাটে দু’টি ব্রিজ। মাত্র দু’টি ব্রিজের অভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিছিয়ে রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আর পানি নেমে গেলে পায়ে হেঁটে কিংবা গরু-মহিষের গাড়ি বা ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে চলাচলই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।
ভুক্তভোগী স্থানীয়দের মতে, বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে উন্নয়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি আজও। আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ভারত সীমান্তঘেঁষা রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের কৃষিনির্ভর বিস্তীর্ণ জনপদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি মিলে, ভোট শেষে তা আর আলোর মুখ দেখে না। স্থানীয় শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় একটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। আমার বাড়ি রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর চরে। ছোটবেলায় বন্যার সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যার কারণে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হতো না। পানি বাড়লে প্রায় ছয় মাস শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকতো। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসাদুল্লাহ বাচ্চু বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বাজেটে অনুমোদন পেলেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ভাগজোত ও সুকারঘাটে ব্রিজ এবং নদীভাঙন সমস্যা আমার উপজেলার অন্যতম বড় সমস্যা। বিষয়টি আমি সংসদে উত্থাপন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটারও দিয়েছি। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে সীমান্তবর্তী দুই ইউনিয়নের বিস্তীর্ন জনপদের জীবন চিত্র। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে, পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়ায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। তবে অবহেলিত চরবাসী আশ^াসে আর বিশ^াসী নয়, তারা চায় এর বাস্তবায়ন।
