মেসি ছাড়া অচল নয় আর্জেন্টিনা

মেসি ছাড়া অচল নয় আর্জেন্টিনা

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিসের ধাক্কা কাটিয়ে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি জোড়া গোল করেন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে ১৮ গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের সবই এসেছে মেসির পা থেকে। আর্জেন্টিনার এই মেসিনির্ভরতায় মুখ বন্ধ নেই সমালোচকদের। বলা হচ্ছে মেসি ছাড়া দলটাই অচল! কিন্তু এমনটা মনে করেন না বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এমিলি। তিনি বলেন, ‘মেসি ছাড়া বাকিরা পারছে না, এমন ভাবাটা ভুল। আসলে মাঠের সুযোগগুলোর বেশিরভাগ মেসির কাছে আসছে এবং সে গোল করছে। দলটির সিস্টেমটাই এমন যে মেসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। মেসি ছাড়া দলটি এক রকম আর তাকে ছাড়া অন্যরকম খেলবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে তাদের শক্তি নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’

এমিলি মনে করেন, দলে লাওতারো মার্টিনেজ বা হুলিয়ান আলভারেজের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার রয়েছে যারা ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। তবে মেসিই তাদের মূল চালিকাশক্তি। কোচের প্রধান লক্ষ্য হলো খেলার বড় অংশে মেসিকে কি-প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ৩-০ গোলের জয়ের চেয়ে এই ম্যাচে অস্ট্রিয়া আর্জেন্টিনাকে অনেক বেশি কঠিন প্রতিরোধের মুখে ফেলেছিল মাঠের লড়াইয়ে। অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ জার্মান কোচ রালফ রাংনিকের ছক ভাঙা কঠিন ছিল। ম্যাচের শুরুতে মেসির পেনাল্টি মিসের ধাক্কায় আর্জেন্টিনার ওপর মানসিক চাপ বাড়ে। রাংনিকের ৪-৪-২ ফরমেশনের গেগেনপ্রেসিং কৌশলে আর্জেন্টিনা বেশ কোণঠাসা ছিল। রক্ষণে ডেভিড আলাবার দুর্দান্ত ট্যাকল ও ব্লক আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল। এ নিয়ে এমিলির বিশ্লেষণ, ‘ব্যালেন্সড প্রেসিং হলো তারা প্রতিপক্ষকে খেলতেই দেবে না। আপনি বল হারালেই তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিং শুরু করে। এটি কোনো একক খেলোয়াড়ের প্রেসিং নয়, পুরো দলের কম্বাইন্ড প্রেসিং।’ অস্ট্রিয়ার এই কৌশলের কারণে মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পলদের বল পজেশন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে মার্সেল সাবিৎজার ও কনরাড লাইমারদের হাই-প্রেসিং ব্লক এড়িয়ে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। মাঝমাঠের ত্রয়ী এনজো, রদ্রিগো ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখেন। রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অভেদ্য প্রাচীর অস্ট্রিয়ার আক্রমণ রুখে দেয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সাবিৎজারের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক রুখে দেন। দলের এই কৌশলগত পরিপক্বতা নিয়ে এমিলি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা খুব ভালোভাবে ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কখনো খেলা স্লো করেছে, আবার আক্রমণে যাওয়ার সময় খুব দ্রুত গতিতে খেলেছে।’ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসিদের ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। সামনে আরও শক্তিধর দল পড়লে আর্জেন্টিনা এলোমেলো হয়ে যাবে এমন আলোচনা-সমালোচনাও কম নয়। তবে এমিলি এমনটা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার সঙ্গে যারা খেলতে আসবে, এলোমেলো তারাই হবে; তাদের খেলা এলোমেলো হবে না। বিশ্বমানের কোচের অধীনে তারা প্রতিটি ম্যাচ ধরে চমৎকার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

এই বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াইয়ে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেনকে এগিয়ে রাখছেন এমিলি। তার মতে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন কিংবা স্পেনের লামিন ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে এমিলি বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চের পারফরম্যান্সের দিক থেকে মেসির সঙ্গে এমবাপ্পের তুলনা করা যেতে পারে। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ইতিমধ্যে ১৬টি হয়ে গেছে। ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচে সে গোল করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এবং অল-টাইম গ্রেট হিসেবে মেসির সঙ্গে কারোর তুলনা চলে না।’ এমিলি বলেন, ‘ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে ফুটবল এখন পুরোপুরি টিম গেম হয়ে গেছে। দলীয় সংহতিই এখন ইউরোপীয় ও লাতিন পরাশক্তিদের ম্যাচ জেতার প্রধান হাতিয়ার।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন