আজ রাতে মায়ামি স্টেডিয়ামে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচের সমীকরণ বলছে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেবল একটি ড্র করতে পারলেই স্কটিশরা পৌঁছে যাবে নকআউট পর্বে। এমনকি অল্প ব্যবধানে হারলেও, সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়ার দারুণ সুযোগ থাকবে অ্যান্ডি রবার্টসনদের। কাগজে-কলমের এই সহজ সমীকরণই এখন স্কটিশ সমর্থকদের মূল মাথাব্যথার কারণ। তবে ফুটবলের চিরাচরিত নিয়ম বলছে, ড্র বা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামা যেকোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন সাম্বার দেশ ব্রাজিল। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, কোনো কোচ বা খেলোয়াড়ই ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে সফল হতে পারেন না। স্কটল্যান্ডের সাবেক কোচ ক্রেগ লেভেইন এই কৌশলের নেতিবাচক দিকটি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না স্টিভ ক্লার্ক ড্রয়ের জন্য খেলবেন। কারণ এর মধ্যে একটি বড় বিপদ লুকিয়ে আছে। আপনি যখন শুধু ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবেন, তখন হুট করে একটা গোল হজম করে বসলে সেই মানসিক ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ে।’ ২০১০ সালের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে লেভেইন বলেন, ‘চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে আমরা ৪-৬-০ ফরমেশনে খেলেছিলাম, যেখানে ড্র করাই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু একটা সেট-পিস থেকে গোল খেয়ে আমরা ম্যাচটি হেরে যাই।
ফুটবল এতটাই অনিশ্চিত যে, আপনি আগে থেকে ফল নির্ধারণ করে রক্ষণাত্মক খেলতে পারেন না।’ চলতি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধার নয়। হাইতির বিপক্ষে মাত্র ৪৬% এবং মরক্কোর বিপক্ষে ৪০% সময় বল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
পুরো টুর্নামেন্টে অন-টার্গেট শট মাত্র দুটি! এই অতি-রক্ষণাত্মক ও অলস কৌশলের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক মিডফিল্ডার স্কট অ্যালান। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি অনবরত রক্ষণভাগে চেপে বসে থাকবেন, তখন খেলোয়াড়দের মনে ভয় ঢুকে যায়। আপনি নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলাতেই পারেন। কিন্তু সেখানেও আগ্রাসী ভাব থাকতে হবে।’ আরেক সাবেক মিডফিল্ডার অ্যান্ডি হ্যালিডে মনে করেন, ভিনিসিয়ুস-নেইমারদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সামান্যতম জায়গা দিলে তার খেসারত দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মরক্কোর বিপক্ষে যা সুযোগ পেয়েছিলাম, তা ওদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নেয়ার ফলেই এসেছিল। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে আমাদের বল পায়ে না থাকা অবস্থায় আরও বেশি আগ্রাসী হতে হবে।’
