ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন মাইলফলকে অনেকেই নার্ভাস থাকেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে সেই দলে নন। সোমবার রাতে ফিলাডেলফিয়ায় ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শততম ক্যাপটি চিরস্মরণীয় করে রাখেন ফ্রান্স অধিনায়ক। সঙ্গে উসমান দেম্বেলের গোলে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো ফ্রান্স। সেই সঙ্গে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হলো দিদিয়ের দেশম শিষ্যদের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, জার্মানি ও আর্জেন্টিনার পর পঞ্চম দল হিসেবে শেষ ৩২-এ পা রাখলো গতবারের রানার্সআপরা।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে জ্বলে ওঠেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাইকেল ওলিসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ কার্লিং শটে গোলকিপার আহমেদ বাসিলকে পরাস্ত করেন। এটি বিশ্বকাপে তার ১৫তম গোল। কিন্তু এরপরই প্রকৃতির বাধা। বজ্রঝড়ে দুই ঘণ্টা দশ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। গ্যালারিতে দর্শকরা পঞ্চো আর ছাতার খোঁজে ছোটাছুটি করলেন। মাঠে পানি জমলো। এরপর মাঠে ফিরে আরও ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ভুল করে বসে ইরাকের রক্ষণভাগ। গোলকিপার বাসিল শর্ট গোলকিকে নিজের ডিফেন্ডারের পাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। বল পেয়ে দেম্বেলে বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পেকে। ফাঁকা গোলে বল পাঠাতে ভুল করলেন না ফরাসি অধিনায়ক। এই গোলে ছুঁয়ে ফেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে দু’জনের গোলসংখ্যা সমান ১৬।
এমবাপ্পের সামনে কেবল কেবল একজন। ফরাসি অধিনায়ক মাঠে নামার কয়েক ঘন্টা আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে শীর্ষে বসা লিওনেল মেসি। ১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে শীর্ষ গোলদাতা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৬৬ মিনিটে ফ্রান্সের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। ওলিসের পাস ধরে লো শটে বাসিলকে পরাস্ত করেন পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপে দেম্বেলের এটি প্রথম গোল। ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করেন ওলিস। সেনেগালের বিপক্ষে একাধিক রেকর্ড গড়ে ফ্রান্স। দেশটির হয়ে শততম ম্যাচ খেলেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে একশো ম্যাচ খেলা দশম খেলোয়াড় তিনি। ২৭ বছর ১৮৪ দিনে এ কীর্তি গড়ে সর্বকনিষ্ঠ রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। এছাড়া টানা তিন বিশ্বকাপে একাধিক গোল করার কীর্তিও গড়েন এমবাপ্পে। এর আগে ১৯৩০ সালে গুইলারমো স্তাবিলে, ১৯৫৪ সালে স্যান্ডোর কোকসিস এবং এই বিশ্বকাপেই লিওনেল মেসি এ তালিকায় নাম লেখান। কোচ দিদিয়ের দেশমও রেকর্ড গড়েছেন। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে ১৬তম জয় পেয়ে জার্মানির হেলমুট শোনের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
দুই ম্যাচে দুই হারে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে ইরাক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে পাঁচ হার তাদের। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটিও না জেতার রেকর্ডও এখন ইরাকের। নকআউটে যেতে হলে শেষ ম্যাচে সেনেগালকে হারানো ছাড়া বিকল্প নেই। তৃতীয় হতে পারলে টিকে রইবে নকআউটে যাওয়ার ক্ষীণ আশা। ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। যদিও পরিস্থিতি অতটা সহজ ছিল না, তবে জয় নিশ্চিত করতে পারা দারুণ। আমরা আজই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। তবে আমি নিশ্চিত যে, গ্রুপের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে নরওয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনি জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য আরেকটি বড় ধাপ।
আমরা এখানে কেন এসেছি তা আমরা ভালো করেই জানি। আমরা এক ম্যাচ এক ম্যাচ করে এগিয়ে যাবো এবং নিজেদের উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখবো। আমি আজকের ম্যাচটি দারুণ উপভোগ করেছি। ৩-০ ব্যবধানে জয় এবং গোল হজম না করা (ক্লিন শিট), সব মিলিয়ে দারুণ অনুভূতি।’ শততম ম্যাচে জোড়া গোল, দলের নকআউট নিশ্চিত, ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ-এক রাতেই অনেক কিছু পেলেন এমবাপ্পে। তবু মনে হচ্ছে এই রাত তার কাছে কেবল শুরু। গন্তব্য আরও দূরে।
