জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৮ জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি)। মঙ্গলবার তারা রাষ্ট্রপতির কাছে পৃথক পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল করিম, অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট গোলাম রহমান ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন- ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।
পৃথক পদত্যাগপত্রে আইন কর্মকর্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমরুল কায়েছ রানা তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত থাকা তার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। তবে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ ও অবস্থানের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। জানা গেছে, পদত্যাগপত্রগুলো মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Mohammad Harun Rashid
৩৫ মিনিট আগেমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সুশাসন থাকলে যে কেউ সরকারের যে সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রের কয়েক জন আইন কর্মকর্তা সেটি করেছেন। তবে কোন দলের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়ে থাকলে তা হবে দুঃখ জনক! বিএনপি সরকার তাঁদের
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ওয়াদা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।