ইনুর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ৩০শে জুন

ইনুর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ৩০শে জুন

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৩০শে জুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এদিন ধার্য করেন। এদিন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইনুর বিরুদ্ধে সুপেরিয়র রেসপনসিবিলিটিসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় তার ওপর বর্তায়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাদের সাক্ষ্যে ইনুর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন মনে করে। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। তিনি বলেন, আমরা মনে করি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই আমাদের প্রত্যাশা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাহবুব আলম হানিফের বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায়ের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে ধারণা প্রকাশ করে বলেন, ট্রাইব্যুনাল সম্ভবত ৩০শে জুনের রায় প্রস্তুতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য মামলার রায়ের দিন এখনো ঘোষণা করেনি।

ওয়াছিম হত্যা মামলায় চার্জ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় আসামিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ অবস্থায় আইনের বিধান অনুযায়ী তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। আগামী পরশু আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই চার্জ গঠন হতে পারে বলে প্রসিকিউশন প্রত্যাশা করে।

র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ বিভিন্ন আবেদন ও সময় প্রার্থনার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি গ্রহণের পর তার জেরা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ একাধিক আবেদন দাখিল করায় সেগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসামির আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনকে সমর্থন করলেও অন্যান্য আবেদনকে মামলার সঙ্গে অসঙ্গত ও অপ্রাসঙ্গিক বলে বিরোধিতা করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। একইসঙ্গে সাক্ষী ইমরুল কায়েসের জেরা আগামী ২৮শে জুন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। সাক্ষী ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আসামিপক্ষের সমালোচনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ‘রানার’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং আদালতে বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আদালতেই জেরার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তার বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের ঘটনায় পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউশন মনে করে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাসময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চলমান ও ভবিষ্যৎ বিচার কার্যক্রমের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন