কেপ ভার্দের হুঙ্কার, বিশ্বকাপ কাঁপাচ্ছে পুঁচকে দ্বীপরাষ্ট্র

কেপ ভার্দের হুঙ্কার, বিশ্বকাপ কাঁপাচ্ছে পুঁচকে দ্বীপরাষ্ট্র

ফন্ট সাইজ:

এবারের বিশ্বকাপে রূপকথার নতুন এক গল্প লিখছে এক পুঁচকে আফ্রিকান দেশ, নাম তার কেপ ভার্দে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় ‘ব্লু শার্ক’ খ্যাত দলটি। অনেকেই সেটাকে স্রেফ ভাগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলের মহাকাব্যিক ড্রয়ে তারা প্রমাণ করলো, তারা এখানে শুধু অংশ নিতেই আসেনি, এসেছে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে। মায়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৯ নম্বরে থাকা উরুগুয়ের অহংকার গুঁড়িয়ে দিয়ে এখন শেষ ৩২-এর স্বপ্ন দেখছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।

আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ১০টি দ্বীপের এক ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দেশের নিকটতম প্রতিবেশী সেনেগাল। ১৯৭৫ সালে পর্তুগিজদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করা এই দেশটির জনসংখ্যা ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরের সমান। আর এই পুঁচকে দেশটিই এখন কি না কাঁপিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের!

ম্যাচের ২১ মিনিটেই ইতিহাস গড়েন কেপ ভার্দের কেভিন পিনা। ২৮ গজ দূর থেকে নেয়া তার বুলেট গতির ফ্রি-কিক উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলকিপার ফের্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করলে এগিয়ে যায় কেপ ভার্দে। এটিই বিশ্বকাপে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল। গ্যালারিতে তখন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার মা আনা কান্দিদার বাঁধভাঙা উল্লাস, যিনি খরচের ভয়ে বিশ্বকাপ দেখতে আসতে পারছিলেন না।

তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের ভুলে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং অগুস্তিন কানববিওর গোলে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় উরুগুয়ে। তাতে মোটেই দমে যায়নি ব্লু শার্কসরা। ৬১ মিনিটে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মাথিয়াস অলিভেরার মারাত্মক ব্যাকপাসের ভুলের সুযোগ নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচ সমতায় ফেরান হেলিও ভারেলা। দেশের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। এরপর অনেক চেষ্টা করেও জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি ফেদেরিকো ভালভার্দেরা। ম্যাচজুড়ে ১৭ শটের মধ্যে স্রেফ ২টি লক্ষ্যে রাখা উরুগুয়েকে থামতে হয় সেখানেই। আর ১২ শট নিয়েও ৪টি লক্ষ্যে রাখা কেপ ভার্দে যেন জয়ের বুনো উল্লাসে মাতে।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা এখানে স্রেফ অংশ নিতে আসিনি, নতুন স্বপ্ন পূরণ করতে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন দ্বিতীয় রাউন্ড। আমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করবো।’
অন্যদিকে, উরুগুয়ের ৭০ বছর বয়সী কোচ মার্সেলো বিয়েলসা নিজের দলের ওপর চরম ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি বলেন, ‘দলটা মাঠে পুরোপুরি অগোছালো ছিল। কাউন্টার অ্যাটাকের ঝুঁকিতে ছিলাম আমরা। দল হিসেবে উরুগুয়ে অবশ্যই কেপ ভার্দের চেয়ে সেরা, কিন্তু সেটা মাঠের পারফরম্যান্সে দেখাতে হবে। এখন স্পেনকে হারানো ছাড়া পথ নেই, যা আমাদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।’

আরও পড়ুন:
‘মেসিই সেরা’

গ্রুপ ‘এইচ’-এর সমীকরণ এখন জমজমাট। উরুগুয়ে এর আগে সৌদি আরবকেও হারাতে পারেনি (১-১), ফলে স্পেনের বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন খাদের কিনারায়। অন্যদিকে আগামী শুক্রবার সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে পারে লড়াকু কেপ ভার্দে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন