কানসাটে জমে উঠেছে আমের বাজার: দরপতনের পর বেড়েছে দাম

ফন্ট সাইজ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে আমের রাজধানী শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে জমে উঠেছে আমের বাজার। আন্তর্জাতিকখ্যাত এই বাজারে দরপতনের পর বেড়েছে আমের দাম। দাম বেশি পেয়ে খুশি আমচাষি ও বিক্রেতারা। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমবাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে এখন আমের ভরা মৌসুম চলছে। জেলার পাশাপাশি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নওগাঁর সাপাহার থেকেও বিপুল পরিমাণ আম আসছে বাজারে। তবে সরবরাহ বেশি থাকায় গত সপ্তাহ আমের তর পতন হয়।

এক সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে আমের দাম বেড়ে চাঙ্গা হয়েছে। কানসাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ব্যানানা, বারি-৪ ও রানীপ্রসাদসহ বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ লক্ষণভোগ ১২’শ থেকে ১৩’শ টাকা, ক্ষীরসাপাত ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, আম্রপালি ২৫শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা ও ল্যাংড়া ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যানানা ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাজনা আদায় নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, আম বিক্রি, আড়তে প্রবেশ এবং কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিংয়ের সময় একাধিকবার খাজনা দিতে হচ্ছে। আম চাষিরা বলেন, গত সপ্তাহে আমের দাম কম হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছিলাম। কিন্তু এ সপ্তাহে আমের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। আশা করছি, বাজারে আমের দাম আর পড়বে না। এ দাম থাকলে আমরা লাভবান হবো ইনশাআল্লাহ্।

আমচাষিরা আরও বলেন, বর্তমানে আমের ভরা এই মৌসুমে বাইরের জেলা থেকে আম ক্রেতারা কম আসছেন। তাই আমের চাহিদাও কম। বাইরের জেলা থেকে আম ক্রেতারা এলে আমের দাম আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এদিকে, আমচাষিরা অভিযোগ করে বলেন, গত বছর আমের খাজনা কম ছিল, কিন্তু এ বছর খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছে ইজারা কমিটি। আমরা শুনেছি এ বছর সরকারিভাবে হাট বিক্রি হয়েছে আড়াই কোটি টাকায়। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা কম। যেখানে কম দামে হাট কিনেছে, খাজনা কম নেয়ার কথা, সেখানে খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কানসাট আম বাজারের ইজারাদার মো. আলমগীর জুয়েল। তিনি বলেন, নির্ধারিত হারের বাইরে কোনো খাজনা নেয়া হচ্ছে না। কেউ অভিযোগ করলে প্রশাসনকে জানাতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন জাতের আম বেচা-কেনা চলছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশিও আম রপ্তানি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাড়তি খাজনা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের নির্ধারণ করা খাজনা নিতে ইজারা কমিটিকে বলা হয়েছে।

আমার জানা মতে, সরকারি নিয়মানুযায়ী তারা খাজনা আদায় করছেন। আর যদি সরকারে নির্ধারণ করা খাজনা আদায়ের বাইরে বাড়তি খাজনা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নয়ন মিয়া বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহ আমের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকদের কিছুটা লোকসান গুনতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আমের বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন