কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় গত এক সপ্তাহে অন্তত চার শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একের পর এক নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক অভিভাবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়া চারজন হলো উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া মাঝেরপাড়া এলাকার শিশু নুসাইবা, ভালুকিয়া জাফর পল্লানপাড়া এলাকার মাসুদ মোহাম্মদ আরবীত, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ঘাঁটিরপাড়া এলাকার ১৫ বছর বয়সী হৃদয় হাসান এবং উখিয়ার রেদোয়ান নামে আরও এক কিশোর।
এর মধ্যে নুসাইবার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের দাবি, নুসাইবা নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে ফোনও করা হয়েছিল। তবে ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ শনিবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাঁটিরপাড়া এলাকার কিশোর হৃদয় হাসান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে খুঁজে পেতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একের পর এক শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিখোঁজের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিখোঁজ শিশু-কিশোরদের দ্রুত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এদিকে নিখোঁজদের স্বজনরা দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিটি নিখোঁজের ঘটনা একটি পরিবারের জন্য সীমাহীন কষ্ট ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান জোরদার করা জরুরি। উখিয়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে একের পর এক নিখোঁজের ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিখোঁজদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার তুলনায় দৃশ্যমান নয়। ফলে অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিখোঁজ শিশু-কিশোরদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
