মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব

মাধবপুরে অপহরণকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামে এক যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজ মিয়ার বসতঘরের একটি অংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোয়াবই গ্রামের ফুয়াদ হাসান সাকিবের সঙ্গে রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মাছের দীঘি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলা চালানো হয়। এ সময় সশস্ত্র একটি দল খামারে ভাঙচুর করে এবং সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

সাকিবের পরিবারের দাবি, অপহরণের পর থেকে তার কোনো খোঁজ মিলছে না। এ ঘটনায় পুরো সোয়াবই গ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার রাতে গ্রামবাসীর এক বৈঠকে সাকিবকে উদ্ধারের দাবিতে সোমবার রাজেন্দ্রপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শতাধিক গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে সাকিবের সন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, সাকিবকে উদ্ধারের দাবিতে গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়েছিল। তবে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়। এদিকে, নিখোঁজ সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মাহফুজ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাকিব কোথায় আছে- সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। অথচ আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান বলেন, নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, অপহরণ ও অগ্নিসংযোগ দুই ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন