কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেন ট্রাম্পপন্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেন ট্রাম্পপন্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা

ফন্ট সাইজ:

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন মিলিয়নিয়ার আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট কট্টর ডানপন্থী এই ধনকুবের আইনজীবী নিজেকে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে দাবি করেন। তিনি বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে বামপন্থী শিবির থেকে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনার ৯৯.৯৯ ভাগ শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে, দে লা এসপ্রিয়েলা ১ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার (৪৯.৬৬ ভাগ) ভোট পেয়েছেন, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী সেপেদার চেয়ে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০টি বেশি।

সেপেদা পেয়েছেন ১ কোটি ২৭ লাখ (৪৮.৭ ভাগ) ভোট। এছাড়া ১.৬ ভাগ ভোটার কোনো প্রার্থীকেই ভোট না দিয়ে খালি ব্যালট জমা দিয়েছেন। তিন সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটের চেয়ে এবার জয়ের ব্যবধান আরও কমে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো কলম্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় তিনি সেপেদাকে তার উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন দেন। দে লা এসপ্রিয়েলা এই জয়ের মাধ্যমে পেত্রোর চার বছরের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে কলম্বিয়া আবার তীব্রভাবে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ল। এই ফলাফলকে লাতিন আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া কট্টর ডানপন্থী ঢেউয়ের আরেকটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি হন্ডুরাসে নাসরি আসফুরা এবং চিলিতে হোসে আন্তোনিও কাস্ত জয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে পেরুতেও কেইকো ফুজিমোরি ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দফার ভোটের পর এসপ্রিয়েলাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লিখেছেন- সে জিতেছে, অনেক বড় জয়! নির্বাচনী প্রচারণার সময় বামপন্থীদের কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দিলেও, জয়ের পর এসপ্রিয়েলা বলেন, আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যারা আমাকে ভোট দেননি আপনাদের অধিকার রক্ষা করা হবে। আপনাদের মতামত শোনা হবে।

ভিন্ন চিন্তা করার জন্য আপনাদের কখনোই ভয় পেতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি এস্প্রিয়েলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়ার নতুন সরকারের সাথে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার আশা রাখছে। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে পেত্রো ক্ষমতা ছেড়ে দিলে লাতিন আমেরিকার মেক্সিকো, ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং গুয়াতেমালাতেই কেবল বামপন্থী সরকার অবশিষ্ট থাকবে। এদিকে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা স্বাধীন সংস্থা ‘ন্যাশনাল সিভিল রেজিস্ট্রি’র প্রাথমিক ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট পেত্রো। তিনি জানান, অফিশিয়াল চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই ফলাফল মেনে নেবেন না। তার পথ ধরে পরাজিত প্রার্থী সেপেদাও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে দেশের ৩৩,০০০ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফলাফল প্রকাশের পর সেপেদার সমর্থকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়িয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। রাজধানী বোগোতাতেও শত শত মানুষ প্রধান ভোটকেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এই পরিস্থিতিতে এস্প্রিয়েলা পেত্রো ও সেপেদাকে ফলাফল মেনে নিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা দমনে কঠোর ‘লৌহহস্ত’ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসপ্রিয়েলা ভোটারদের মন জয় করেছেন। নিজেকে ‘এল টাইগার’ (দ্য টাইগার) নামে অভিহিত করা এই হবু প্রেসিডেন্ট আগামী ৭ই আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি দেশে ১০টি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘মেগা-কারাগার’ নির্মাণ এবং অপরাধীদের নির্মমভাবে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কলম্বিয়া বিশ্বের বৃহত্তম কোকেইন উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায়, তিনি মাদক চাষের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইবেন বলেও জানান। বোগোতায় জন্ম নেওয়া এসপ্রিয়েলা মূলত একজন ফৌজদারি আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পান, যিনি একসময় ডানপন্থী প্যারামিলিটারি (বেসরকারি বাহিনী) নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মদ, আবাসন এবং পোশাকের ব্যবসায় নামেন। গত বছর ডানপন্থী সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিগুয়েল উরিব তুর্বে এক নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার এক মাস পর এসপ্রিয়েলা নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। কট্টর ডানপন্থী এই নেতার সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থনীতিবিদ হোসে ম্যানুয়েল রেস্ট্রেপো, যিনি দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ব্যয় ৪০ ভাগ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন