আগামীকাল ২৩শে জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় দেশ জুড়ে হাই এলার্টে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করে থানায় থানায় পাঠানো হয়েছে বিশেষ বার্তা। মোড়ে মোড়ে জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম। নজরদারির মধ্যেও কোথাও কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছেন। মিছিল করা বা মিছিলের প্রস্তুতির সময় আটকও হচ্ছেন কেউ কেউ।
আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৮ই জুন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পক্ষ থেকে দেশের সকল মেট্রোপলিটন কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর বিশেষ সতর্কতা জারি করে চিঠি দেয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- আগামী ২৩শে জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে মূল্যায়ন প্রতিবেদন। চিঠিতে বলা হয়Ñ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলের চেষ্টাও হতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি’র নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে বাধা দিলে তাদের ওপরও চড়াও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আর এরই প্রেক্ষিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় বাড়তি নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সম্ভাব্য জমায়েতস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। টহল, চেকপোস্টে তল্লাশির পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সম্ভাব্য এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। গতকালও রাজধানীর আসাদগেট, শ্যামলী, কলেজগেট, ধানমণ্ডি-২৭, ১৯ নম্বর, কলাবাগান, সাইন্সল্যাব, বাংলামোটর, শাহবাগ, পল্টন, মগবাজার, মহাখালী, রামপুরা, গুলিস্থানসহ বেশির ভাগ জায়গাতেই দেখা গেছে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি। এমনকি ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের ভাঙা বাড়ির সামনের রাস্তাতেও বসানো হয়েছে পুলিশি চৌকি। এ ছাড়া, ধানমণ্ডি-জিগাতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতির পোড়া কার্যালয়ের সামনেও মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনেও চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজগেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ ছাড়াও আরও ছয়জনকে আটক করেছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্কতা ও নাশকতা- সংঘর্ষের আশঙ্কার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ২৩শে জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে বিভিন্ন স্পটে আমাদের পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করতে চায় বা ঝুঁকি তৈরি করতে চায় তাহলে তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তিনি বলেন, আমরা সব স্টেশনগুলোতে অলরেডি ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না, বরং এটি একটি মাফিয়া দল। দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
