চট্টগ্রাম নগরের একটি পাবলিক হাইস্কুলে চুরির অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম মো. জয়নাল (২৭)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মরদেহ উদ্ধারে গেলে পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। রোববার সকালে কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকার রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মারধরের পাশাপাশি জয়নালকে বৈদ্যুতিক শকও দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জয়নাল ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া ছোট মসজিদ এলাকার মৃত দুলালের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করা হচ্ছেÑ এমন অভিযোগে জয়নালকে আটক করেন স্কুলের দুই নিরাপত্তাকর্মী। পরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও জয়নালের স্বজনরা স্কুলের সামনে জড়ো হন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। এ সময় পুলিশবাহী গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
নিহতের মা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে দোষ করে থাকলেও তার বিচার হতো। এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্বজনদের বুঝিয়ে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে মারধর করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে স্কুলের দুই নিরাপত্তাকর্মী আজাদ ও সমীর দাশকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক শক দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
