হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ছাতিয়াইন-রতনপুর সড়কটি সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের অসংখ্য খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিল্পাঞ্চলগামী শ্রমিকরা। জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রতনপুর পয়েন্ট থেকে ছাতিয়াইন হয়ে ফান্দাউক পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি মাধবপুর উপজেলার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এদিকে গত কয়েক বছরে সড়কের দুই পাশে একাধিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং রাতের বেলায় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামতে বা ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ করেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্তগুলো পানিতে ডুবে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বছর দেড়েক আগে সড়কটিতে কার্পেটিং করা হলেও নিম্নমানের কাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এমন করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও দাবি জানান তারা। সড়কটি দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সড়কটির উন্নয়ন না হলে একদিকে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী রেজা উন নবী বলেন, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
