আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে জামায়াত এমপি’র ডিও, এলাকায় ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

মার্র্জেউল হাসান তাজু। ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি মাহমুদ হাসান রিপনের খাস লোক। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে খুব কাছাকাছি থাকতেন। অনেকটা নিরাপত্তাকর্মীর মতোই। চাকরি করেন গাইবান্ধা আদালতে। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলে এই তাজু গাঢাকা দিয়ে থাকেন। পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হলে স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে মেশা শুরু করেন। জামায়াতের স্থানীয় কিছু নেতাও তাকে আগলে রাখতে শুরু করলেন। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবদিক দিয়েই ওই তাজু জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। বিনিময়ে একটি স্কুলে সভাপতি বানানোর জন্য জামায়াতের এমপি তাকে ডিও লেটার প্রদান করেছেন। আর তাতেই পুরো এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে থাকেন খোদ জামায়াতের কর্মীরাও।

ঘটনাটি গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সাঘাটা উপজেলার ওসমানেরপাড়ায়। ওই গ্রামের নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। আওয়ামী লীগের সময় মার্জেউল হাসান তাজুর বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোকছেদুল হাসান সাজু স্কুলটির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ওই দোসর তাজু জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দের একটি ডিও লেটার নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছেন। সভাপতি হওয়ার জন্য জামায়াতের কিছু নামধারী নেতাকে ম্যানেজ করে চাপ প্রয়োগও করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের এমপির দেয়া ডিও লেটারের কথা ওসমানেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী মোল্লা স্বীকার করেছেন মানবজমিনের কাছে। তিনি বলেন, এমপি এমন একজনকে ডিও লেটার দিয়েছেন যিনি বিগত আওয়ামী সরকারের এমপিদের সঙ্গে সব সময় ওঠাবসা করতেন। আমি আওয়ামী লীগ করে এমন কাউকে সভাপতি হিসেবে বসাবো না। এদিকে ফ্যাসিস্টদের ডিও লেটার প্রদান করায় জামায়াতের বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দের বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ মানবজমিনকে জানান, আমি কাকে ডিও লেটার দিয়েছি তার নামও মনে নেই। সংগঠন বিষয়টা জানে। সাংগঠনিকভাবে আমার কাছে ডিও লেটার নেয়ার জন্য আসলে আমি শুধু স্বাক্ষর করে দেই। কাকে দিলাম না দিলাম সেটার দায় সংগঠনের। তিনি বলেন, এমনো হয়েছে এক স্কুলের জন্য একাধিক ডিও লেটারে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। সভাপতি একজনের জন্য নিয়েছেন আর সেক্রেটারি অন্যজনের জন্য নিয়েছেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি না করার অনুরোধ করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন