মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিবাদ সভা

মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিবাদ সভা

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে নিরীহ হোটেলের শ্রমিক শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনি হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মনুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং মৌলভীবাজারের কুসুমবাগ এলাকার একটি হোটেলের মালিক জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে অসদাচরণ করায় হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। শনিবার রাতে শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সোহেল আহমেদ।

সভায় বক্তব্য রাখেনÑ মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ ও জামাল মিয়া, শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন, রুহুল আমিন প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, ১৬ই জুন রাত ৯টার দিকে রংপুর মহানগরীর খামারের মোড় এলাকার আমিরের হোটেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মরত হোটেল শ্রমিক শাওনকে হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মনু হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে মাথায় আঘাতে হত্যা করে। এই ঘটনায় শ্রমিক জনতা হত্যাকারী হোটল মালিককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। নেতৃবৃন্দ শ্রমিক শাওনের খুনীর দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন এই ঘটনার মধ্যে আবারো হোটেল শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আসে। এর আগেও মৌলভীবাজারে খানদানি রেস্টুরেন্টের শিশু শ্রমিক তানিম, সিলেট মহানগরীর কাজিরবাজার এলাকার শাপলা রেস্টুরেন্টের শ্রমিক দিনার আহমেদ রুমন ও ঢাকার ঘরোয়া হোটেলের কিশোর শ্রমিক রিয়াদকে হত্যা করা হলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করায় একের পর এক শ্রমিককে নির্মমভাবে খুন হতে হচ্ছে। হোটেল শাওন হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশের হোটেল শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেছেন। রংপুরে হোটেল শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন, আগামীতে সারা দেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা নিতান্ত জীবিকার তাগিদে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও যেমন পায় না ন্যায্য মজুরি, তেমনি জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। এমনকি শ্রমিকরা শ্রমআইন অনুযায়ী, প্রাপ্য সুযোগটুকুও পায় না। এমতাবস্থায় ৫ই মে ২০২৫ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন। ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বর্তমান বাজারদর এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ভরণপোষণের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবি থেকে অনেক কম। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নির্বিকার। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য করা হয়। শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বাস্তবায়নে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ভূমিকা রাখার কারণে প্রায়শই হোটেল মালিকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে। ১৩ই জুন রাতে মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় একটি হোটেলে সাংগঠনিক কাজে গেলে ওই হোটেলের মালিক মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ১৯৫ ধারা মোতাবেক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কাজে বাধা প্রদান, মালিকের পক্ষে অসদাচরণ এবং ২৯১ ধারাতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা আছে। নেতৃবৃন্দ মালিকের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং শ্রমদপ্তরকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন