চুরির মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নাসরুল্লাহ রুবেলের বিরুদ্ধে চুরির মামলার মিথ্যা চূড়ান্ত রিপোর্ট (ফাইনাল রিপোর্ট) আদালতে জমা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার কুমিল্লা প্রেস ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মো. আবুল কাশেম গাফুরী।

লিখিত অভিযোগে বাদী জানান, গত বছরের ২০শে জুলাই নাঙ্গলকোট উপজেলার চারিজানিয়া গ্রামের বাড়ির বসত ঘর থেকে ৯ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও নগদ লক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০)। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় নাঙ্গলকোট থানার এসআই নাসরুল্লাহ রুবেলকে।

তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তভার নেয়ার পর থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা একদিনের জন্যও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং মামলার কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিও রেকর্ড করেননি।
বাদী আবুল কাশেম গাফুরী আরও অভিযোগ করেন, মামলার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বারবার সময়ক্ষেপণ করেন এবং মামলাটি পক্ষে দেয়ার কথা বলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে কালক্ষেপণ করায় গত বৃহস্পতিবার এসআই নাসরুল্লাহ রুবেল বাদীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি লিখেন, ‘আসসালামুআলাইকুম ভাই, আপনার মামলার রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে কিন্তু সরি মামলা আপনার পক্ষে প্রমাণ করতে পারলাম না। আপনি চাইলে নারাজি দিয়েন।

সংবাদ সম্মেলনে বাদী গাফুরি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না গিয়ে, সাক্ষীদের বক্তব্য না নিয়ে এবং বাদীর জবানবন্দি ছাড়া কীভাবে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেন? তিনি দাবি করেন, বিবাদী পক্ষ দ্বারা অনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসআই রুবেল এই মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট দাখিল করেছেন। এর ফলে তিনি আদালতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এসআই নাসরুল্লাহ রুবেল বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা করণীয়, সব আইন মেনেই আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছেন চারিজানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম গাফুরী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন