আশি ও নব্বই দশকে হাতেগোনা যে ক’জন অভিনয়শিল্পী মঞ্চ ও টেলিভিশনে নিজেদের অভিনয়ের মাধ্যমে আলো ছড়িয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আজিজুল হাকিম। দীর্ঘ সময় নাটকের প্রধান অভিনেতা হিসেবে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় এক সময়ের টেলিভিশন নাটকের নায়ক আজিজুল হাকিম এখন বাবার চরিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হচ্ছেন। নিজের অভিনয় জীবন, চাওয়া-পাওয়া, অভিনয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীসহ নানা বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এ অভিনেতা। প্রথমেই কথা হলো অভিনয় জীবনের সুবর্ণ জয়ন্তী নিয়ে। দেখতে দেখতে অভিনয়ে ৫০টি বছর পার করে ফেলেছেন। এটাকে কি কখনো অবিশ্বাস্য মনে হয়? আজিজুল হাকিম বলেন, চোখের পলকে অভিনয়ে ৫০ বছর পার করছি। মাঝে মধ্যে স্বপ্নের মতো মনে হয় এই যাত্রা। সৃষ্টিকর্তা যদি সুস্থ রাখেন আগামী বছর অভিনয় জীবনের সুবর্ণ জয়ন্তী হবে আমার।
কথায় কথায় তিনি বলেন, একজন ক্ষুদ্র অভিনেতা হিসেবে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমার নাট্যগুরু মামুনুর রশিদ ভাই। গ্রুপ থিয়েটার আরণ্যক আমাকে অভিনয়ের পথে আলো দেখিয়েছে। এ যাত্রায় যার ঋণ এক জনমে পরিশোধ করার মতো ক্ষমতা আমার নেই, তিনি হচ্ছেন আমার সহধর্মিণী এবং নাট্যকার জিনাত হাকিম। অভিনেতা হিসেবে ৫০ বছর অতিক্রম করেছেন, যেটা সবার ভাগ্যে জোটে না। ভাবতে কেমন লাগে? এ অভিনেতা বলেন, অবসরে যখন মাঝে মাঝে একা বসে ভাবি কি সুন্দর সোনালি সময় পার করেছি। কতো জ্ঞানী-গুণিজনের সান্নিধ্য পেয়েছি। মঞ্চে শুরু ছোট্ট একটি চরিত্র দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় পরিপক্বতা অর্জনের মাধ্যমে ছোট পর্দায় রোমান্টিক হিরো হিসেবে দর্শকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করতে পেরেছি। আমি সৌভাগ্যবান এই অর্থে যে, কয়েক প্রজন্মের শিল্পী-নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছি। এখনো আপনি কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময়ে কাজের অভিজ্ঞতা বলুন? বর্তমান প্রজন্মের নির্মাতারাও আমাকে নিয়ে ভাবছেন, কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন নাটক, ওটিটি কিংবা চলচ্চিত্রে। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। নায়ক থেকে বাবার চরিত্রে পদার্পণ, এই পরিবর্তন কীভাবে উপলব্ধি করেন? আজিজুল হাকিম বলেন, বিষয়টি সত্যিই উপভোগ করি। এই প্রজন্মের নিলয়, জোভান, আরশ, মনোজ প্রামাণিক, পার্থ শেখদের সঙ্গে কাজ করেছি। কখনো বাবার চরিত্রে আবার কখনো বড় ভাইয়ের চরিত্রে। নতুনদের থেকেও অনেক বিষয় শেখার আছে। প্রতিনিয়ত আমি সবার কাছ থেকেই কাজ শিখি। আপনি অনেক অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
অভিজ্ঞতা কেমন? হেসে এ অভিনেতা বলেন, শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত, আফসানা মিমি থেকে শুরু করে সুমাইয়া শিমু সবার সঙ্গে রোমান্টিক চরিত্রে কাজ করেছি। তার মধ্যে হাকিম-শমী জুটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। দীর্ঘদিন শোবিজে কাজ করেছেন। কিন্তু আপনাকে নিয়ে নেতিবাচক খবর কখনো আসেনি। এটা কীভাবে? আজিজুল হাকিম বলেন, যে যার মতো করে পথ পরিচালনা করে। যারা তারকা তাদের নিয়ে অল্পবিস্তর গসিপ হয়ে থাকে। প্রেম-ভালোবাসা কিংবা কাজের গাফিলতি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়। এর মধ্যে কতোটুকু সত্যÑ এটাও দেখার বিষয়।
