সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ আলোচনায় থাকছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ ও শিক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ আলোচনায় থাকছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ ও শিক্ষা

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আজ মালয়েশিয়া সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আজ পুত্রজায়ার পারদানা পুত্র কমপ্লেক্সে এক আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেয়া হবে। এর পরপরই তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এই বৈঠকে দুই নেতা মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি এবং শিক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

সফরকালে দুই নেতার উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে, যা মূলত সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী গবেষণা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহজীকরণ বিষয়ক দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অফ নোটস’ (ইওএন) স্বাক্ষরিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সরকারি তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২.১৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মালয়েশিয়ার ২৮তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের পর মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য। মালয়েশিয়া মূলত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে টেক্সটাইল, পোশাক ও জুতা জাতীয় পণ্য আমদানি করে থাকে।
মালায়শিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং শ্রমবাজারের পুনরুদ্ধার, অভিবাসী কর্মীদের আইনি সুরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চ-প্রযুক্তিগত শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রশস্ত করবে। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দুই দেশের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে, এই সফর সেই বহুমুখী সম্পর্ককে আরও সুসংহত ও বেগবান করবে বলে আশা করছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে। 

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন