শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৬ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৬ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

২০১৬ সালে মিরপুরের কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ নামক ভবনে জঙ্গি নাম দিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৬ জনকে আত্মসমর্পণে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ই মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপি’র তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপি’র তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মামলার মোট ৮ জন আসামির মধ্যে দু’জনকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনাসহ বাকি ৬ জন পলাতক থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য আইনি নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আদালত এ যুক্তির প্রেক্ষিতে পলাতক আসামিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, মিরপুরের কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে ৯ জন তরুণকে আটক রেখে গুলি করে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা ট্রাইব্যুনালে রয়েছে। এ মামলায় নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে মামলার আইও কর্তৃক রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। এখন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে বলেছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৮ই মার্চ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে। ঐদিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির পরে স্টেট ডিফেন্স কাউন্সিল নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য হবে। উল্লেখ্য, গত ২৯শে জানুয়ারি এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৫শে জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামের একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটকে রাখা হয়। এরপর সোয়াত ও সিটিটিসি গিয়ে তাদের বাসার মধ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদেরকে জঙ্গি হিসেবে প্রচার করে। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘জঙ্গি নাটক’ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য, এই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে বহু আগে থেকে এখানে এনে জড়ো করা হয়েছে। কেউ কেউ ডিবি হেফাজতে ছিলেন দুই-তিন মাস ধরে। সেখান থেকে তাদের ধরে নিয়ে রাতে ওই বাসায় জড়ো করা হয়। পরে রাতের বেলা ব্লক রেইডের কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই হাজির হন। পরে তাদের গুলি করে হত্যা করে জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করেন। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে, ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি ও বিভিন্ন তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে।
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসানকে (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য জন্য আগামী ২৯শে মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। এ মামলায় মোট আসামি ১১ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- যাত্রাবাড়ি থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। এদিন গ্রেপ্তার দুই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা আবুল হাসান ও শাহাদাত আলীকে দোষ স্বীকার করবেন কিনা জিজ্ঞেস করেন বিচারক শাহরিয়ার কবির। এসময় আসামিরা দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু ও সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯শে মার্চ দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপি’র তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ি থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন