পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ভারত সম্পর্কে করা মন্তব্যকে অবান্তর এবং বিদ্বেষপ্রসূত রাজনৈতিক আক্রমণ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। সম্প্রতি জারদারি ভারতের মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে হুমকির অভিযোগ তোলেন বলে খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবারও বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার বা অবস্থান নেই ইসলামাবাদের। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টে করা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো আইনি বা নৈতিক অবস্থান রাখেন না। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের নিজেরই মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। জয়সওয়াল বলেন, এই মন্তব্যগুলো বিশেষভাবে অবান্তর।
কারণ পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার রেকর্ড অত্যন্ত খারাপ, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে হিন্দু এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মতো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতা চলমান রয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সেখানে এখনো অব্যাহত আছে, যা সরকারি নিপীড়ন এবং বৈষম্যমূলক আইনের কারণে আরও উসকে দেয়া হয় বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। জারদারির মন্তব্য প্রসঙ্গে জয়সওয়াল আরও বলেন, এগুলো পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও বৈষম্যমূলক নীতির রাজনৈতিক প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতিতে বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার প্রতিফলন।
ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে জারদারির এক্সে একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের বারাণসীতে ঐতিহাসিক মসজিদ গঞ্জ শহীদা এবং অন্যান্য মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার হুমকির অভিযোগ তোলেন। নতুন দিল্লি বারবার বলেছে, পাকিস্তানকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে এবং এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে।
