দুইদিনের সফরে আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরকে ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরে পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গতকাল জানিয়েছেন, ২১শে জুন কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন অর্থাৎ সোমবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভাতৃপ্রতীম দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সমপ্রসারণ, শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী ও দক্ষ পেশাজীবীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে ঢাকা আশাবাদী। বর্তমানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ফলে নতুন কর্মী নিয়োগ, বিদ্যমান কর্মীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতির প্রত্যাশা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সমপ্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সফরে বাংলাদেশকে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপিতে যোগদানের আগ্রহ মালয়েশিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে। রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনার অন্যতম বিষয় হিসেবে থাকছে। বাংলাদেশ আশা করছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়াসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
সফরকালে সংস্কৃতি সহযোগিতাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং দুই দেশের সরকারপ্রধানের যৌথ সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। ফলে সফরটি ঘিরে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কূটনৈতিক অঙ্গনেও উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকটি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর হতে পারে। পাশাপাশি সম্ভাব্য মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় উন্নীত করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান আসাদ আলম সিয়াম। প্রসঙ্গত, ২২শে জুন মালয়েশিয়া থেকেই চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ, শ্রম-বাণিজ্য ঘিরে প্রত্যাশা
কূটনৈতিক রিপোর্টার
২১ জুন (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
