ওয়াংখেড়েতে হিমালয়সম বীরত্ব স্নায়ুচাপে নেপালের হৃদয় ভঙ্গ

ওয়াংখেড়েতে হিমালয়সম বীরত্ব স্নায়ুচাপে নেপালের হৃদয় ভঙ্গ

ফন্ট সাইজ:

অঘটনের এক দীর্ঘ ইতিহাস সঙ্গে নিয়ে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নামে ইংল্যান্ড। সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইংলিশদের অঘটনের ভীতি নতুন নয়। গতকাল সেই ভীতি প্রায় সত্যি হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারিতে ১৭ হাজার নেপালি সমর্থকের সমুদ্র আর মুহুর্মুহু ‘উই ওয়ান্ট নেপাল’ ডাককে সাক্ষী করে দারুণ লড়াই উপহার দিলো হিমালয়ের দেশটি। তবে ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ৪ রানের আক্ষেপে পুড়ে নেপাল।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারে উইল জ্যাকস একাই ২১ রান তুলেছিলেন। অন্যদিকে, নেপালের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ১০ রান। ক্রিজে ছিলেন বিধ্বংসী লোকেশ বাম। শেষ ওভারের আগে জোফরা আর্চারকে টানা দুই ছক্কায় হাঁকিয়ে সামর্থ্যের জানান দিয়ে রেখেছিলেন। তবে স্নায়ুর লড়াইয়ে হাসি স্যাম কারানের মুখে। নিখুঁত বোলিংয়ে তিনি শেষ ওভারে দিলেন মাত্র ৫ রান। শেষ বলে ছক্কার প্রয়োজন থাকলেও লোকেশ কেবল এক রান নিতে সক্ষম হন। ম্যাচ শেষে হতাশায় লুটিয়ে পড়েন এই নেপালি ব্যাটার। এর আগে ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল। ব্রুক করেন ৩২ বলে ৫৩ রান, বেথেলের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৫৫ রান। শেষ দিকে উইল জ্যাকস ঝড় তোলেন। মাত্র ১৮ বলে ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে ২১ রান তুলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৪। এদিন অভিষেক ম্যাচে প্রথম বলে উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন নেপালের ২৩ বছর বয়সী অফ স্পিনার শের মাল্লার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে প্রথম বলে উইকেট নেয়া চতুর্থ বোলার হন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকেই এমন কীর্তি আছে ভারতের প্রজ্ঞান ওঝার। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকে নিজের প্রথম বলে ফিরিয়ে এই তালিকায় নাম তুলেন তিনি। আর ২০১৪ বিশ্বকাপে নেপাল বনাম হংকং ম্যাচে নাদিম আহমেদ ও নেপালের সাবেক অধিনায়ক পরশ খাড়কা দুজনেই এ বিরল রেকর্ডে নাম লেখান।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল নেপাল। তিন ওভারে বিনা উইকেটে ৩১ রান তোলে তারা। মাঝের ওভারগুলোতেও ছন্দ ধরে রেখে ১৪ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২৩। অধিনায়ক রোহিত পাওডেল করেন ৩৪ বলে ৩৯, আর দীপেন্দ্র সিং আইরি খেলেন ২৯ বলে ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংস। দুজনে মিলে ৫৪ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন। শেষ ৬ ওভারে নেপালের প্রয়োজন ছিল ৬২ রান। তবে পরপর দুই ওভারে আইরি ও পাওডেল আউট হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। লিয়াম ডসন ২ উইকেটে ২১ রান এবং কারান ১ উইকেটে ২৭ রান দিয়ে খেলায় ফেরান ইংলিশদের।
তবুও শেষ হয়নি নাটক। জোফরা আর্চারের এক ওভারে ২ ছক্কায় ২২ রান তোলেন লোকেশ বাম। পরের ওভারে লুক উড দেন ১৪ রান। শেষ মুহূর্তে ম্যাচ আবার জমে ওঠে। তবে শেষ ওভারে অভিজ্ঞতাই কাজে আসে। শেষ বলে প্রয়োজন হয় ৬ রানের। কিন্তু সেটি করতে পারেননি স্ট্রাইকে থাকা লোকেশ। ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন