ভাইরাল জার্মান ফ্যান ফ্রেডিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে তার রূপকথার যাত্রা

ভাইরাল জার্মান ফ্যান ফ্রেডিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে তার রূপকথার যাত্রা

ফন্ট সাইজ:

জার্মান ফুটবলভক্ত ফ্রেডি যুক্তরাষ্ট্রে তার রূপকথার মতো অভিজ্ঞতা লাইভ টুইট করে ভাইরাল হয়েছেন। তার সফরসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য যুক্ত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনে আমেরিকান ট্যুরিজম, এক্সসেপশনালিজম এবং ভ্যালুজ বিষয়ক বিশেষ প্রেসিডেনশিয়াল দূত অ্যাম্বাসেডর নিক অ্যাডামস ফক্স নিউজ ডিজিটালকে নিশ্চিত করেছেন, ফ্রেডিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অ্যাডামস বলেন, তিনি আমেরিকা সফরের শুরুতেই ফ্রেডির বিষয়ে জানতে পারেন এবং খুব দ্রুতই তার “বড় ভক্ত” হয়ে যান।
তিনি ফ্রেডির যুক্তরাষ্ট্র সফরকে “তার দেশের জন্য অসাধারণ একটি বিষয়” হিসেবে বর্ণনা করেন।
“ফ্রেডি যুক্তরাষ্ট্রে আসা লক্ষাধিক পর্যটকের একজন। যারা আমেরিকান জনগণের অসাধারণ আতিথেয়তা ও উদারতার অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন- সম্প্রতি ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে এমনটাই বলেন অ্যাডামস।
তিনি বলেন, আমেরিকার মতো জায়গা আর কোথাও নেই। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে প্রাণবন্ত এবং সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গন্তব্য।এখানে আছে অসীম চিপস ও সালসা, বাক-ই’স, বেস প্রো শপস, আর সনিক ড্রাইভ-ইনে রুট ৪৪ পানীয়—যেখানে তরুণ-তরুণীরা রোলার স্কেটে চড়ে গাড়ির দরজায় সরাসরি আপনার কাছে খাবার পৌঁছে দেয়। এগুলো সব এমন অভিজ্ঞতা ও সুযোগ, যা আপনি পৃথিবীর আর কোথাও পাবেন না। আমরা এক দেশ হলেও বাস্তবে ৫০টি অঙ্গরাজ্য যেন ৫০টি আলাদা দেশ।”
অ্যাডামস বলেন, ফ্রেডি যখন কান্ট্রি মিউজিক স্টার এলা ল্যাংলি-র প্রতি তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন, তখনই তিনি যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরো বলেন, “আমি মনে করি, ফ্রেডি যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি এলা ল্যাংলির বড় ভক্ত—সেই বিষয়টাই আমাকে নড়েচড়ে বসিয়েছিল। আমিও এলা ল্যাংলির ভক্ত। তখনই আমার মনে হলো, এটাই ঠিক সেই ধরনের মানুষ যাকে আমেরিকায় আনা উচিত। আমাদের দেশের জন্য সে এক অসাধারণ প্রতিনিধি। আমেরিকা আসলে কেমন—তা তুলে ধরার জন্য এর চেয়ে ভালো কেউ হতে পারে না।‘’
ফ্রেডিকে বৃহস্পতিবার রাতে এলা ল্যাংলি-র কনসার্টে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পান।
জার্মান এই ফুটবল ভক্তের আমেরিকা সফরে এটিই ছিল তার পাওয়া বহু অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার একটি।

জার্মান এই ফুটবল ভক্ত এবং তার দুই বন্ধুকে নিউ অরলিন্স সেন্টস ও নিউ অরলিন্স পেলিক্যানস-এর ট্রেনিং ও অফিসিয়াল ফ্যাসিলিটি ঘুরে দেখানো হয়েছে। এছাড়া জেজে ওয়াট তাদের জন্য হিউস্টনের একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
তারা পরিদর্শন করেছেন এলএসইউ ক্যাম্পাস ও টাইগার স্টেডিয়াম। পাশাপাশি হিউস্টন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। হিউস্টনের মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নাসার(NASA) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন সম্পর্কেও একটি ট্যুর পেয়েছেন।
অ্যাডামস, যার পরিবারের কিছু সদস্য জার্মান এবং যিনি সাবলীলভাবে জার্মান ভাষাও বলতে পারেন, বললেন- তিনি ফ্রেডির সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে “পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ক্যাপিটল” দেখার একটি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
অ্যাডামস বলেন, ফ্রেডিকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যিনি আমেরিকার নাগরিক নন, তবুও দেশটিকে ভালোবাসেন।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমাদের জন্য এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা এমন মানুষদের স্বীকৃতি দিই, যারা আমেরিকান না হয়েও আমাদের দেশকে সত্যিকারের ভালোবাসে ও মূল্যায়ন করে। যারা সত্যি সত্যি এখানে এসে আমেরিকান জনগণ ও আমেরিকান জীবনধারার প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন এবং যেসব বিষয় আমাদের এত অনন্য ও অসাধারণ করে তোলে সেগুলোকে উপলব্ধি করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমেরিকানরা সবচেয়ে অতিথিপরায়ণ মানুষ। ট্যুরিজমের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যুরিজম মন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো সেই অতিথিপরায়ণতার উদাহরণ তৈরি করা—ফ্রেডিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে এমন একটি অভিজ্ঞতা দেওয়া যা একবার জীবনে ঘটে, সম্পূর্ণ অবিস্মরণীয়। যেখানে তিনি হোয়াইট হাউসের ভেতরটা খুব কাছ থেকে সরাসরি দেখতে পারবেন।”
অ্যাডামস বলেন, তিনি এখনো ফ্রেডির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। তবে তিনি নিশ্চিত যে, জার্মান এই ভক্তকে খুবই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হবে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সাধারণত অনেক কিছুই জানেন। এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।
ফ্রেডি হলেন সেই ভক্তদের একজন, যারা বিশ্বকাপ সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জীবনের প্রথম অসাধারণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন। অ্যাডামস খুশি যে এখন পুরো বিশ্ব আমেরিকা সম্পর্কে বিদেশিদের এক ধরনের “অপ্রস্তুত/অফিল্টারড” (সরাসরি, সাজানো নয় এমন) মতামত জানতে পারছে।
তিনি বলেন, “আমেরিকার মতো শো আর কেউ উপস্থাপন করে না। আর আমেরিকান জনগণের মতো এত বন্ধুবৎসল, স্বাগতপূর্ণ ও অতিথিপরায়ণ আর কেউ নন।”

“আমি সত্যিই খুব খুশি যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনেক অংশ এবং যাদের আমেরিকার বিরুদ্ধে স্বার্থ রয়েছে—যারা আমাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশ ও আমেরিকান জনগণকে বদনাম করে—তাদের সেই প্রভাব এখন কমে আসছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এখন মানুষ সরাসরি, কোনো ধরনের ফিল্টার ছাড়াই দেখতে পারছে আসলে বাস্তবে লোকেরা কী ভাবছে’’- উল্লেখ করেন তিনি।
অ্যাডামস বলেন, “আমরা এখন আমেরিকা এবং আমেরিকান জনগণ সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের আসল গল্প ও প্রকৃত অনুভূতি জানতে পারছি।”
তিনি বলেন, আমেরিকাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে নেতিবাচক ধারণা বা প্রচার করা হয়—যেমন দেশটি কতটা অনিরাপদ, ব্যয়বহুল বা অতিথিপরায়ণ নয়—বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করছে। এখন মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি দেখতে পারছে, আমেরিকা আসলে কতটা স্বাগতপূর্ণ ও আতিথেয়তায় ভরপুর।
অ্যাডামস বলেন, “আমরা সবসময়ই জানতাম যে আমেরিকা ও আমেরিকান জনগণ সম্পর্কে যেসব নেতিবাচক কথা বলা হয়, তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। এখন আমাদের কাছে খুবই শক্ত প্রমাণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে—এই জাপানি পর্যটক, জার্মান পর্যটক এবং বিশ্বের নানা দেশের মানুষ যারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে এখানে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অতুলনীয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বী, এবং দৃশ্যপট ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে আমরা একেবারেই আলাদা। আপনি যা-ই পছন্দ করুন, যেটাতেই আগ্রহী হন—আমেরিকায় তার সবই আছে।”

সূত্র- নিউ ইয়র্ক পোস্ট

পারভেজ

১ দিন আগে

অনুনন্ত ও শরণার্থীর দেশ হিসেবে মেক্সিকো হতে পারে আমাদের প্রথম গন্তব্য। এজটেক আর মায়া সভ্যতার যাদুর কাঠি আমাদের তুলে দিতে পারে সীমান্তের লম্বা লাইনে যার ওপারে দুনিয়ার স্বর্গ

মন্তব্য করুন