ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) শুরু হচ্ছে বগুড়া ও রাজশাহীতে। আজ সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে প্রস্তুতির আদর্শ মহড়া হিসেবে দেখছেন নর্থ জোনের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরদিনই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ তিনটি অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১১, ১৩ ও ১৫ই মার্চ। তার আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য বিসিএল ক্রিকেটারদের এক শক্তিশালী মঞ্চ দিচ্ছে। শান্তর মতে, জাতীয় দলের নিয়মিতদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে লড়াই করা নতুন প্রতিভাদের জন্যও এটি সামর্থ্য প্রমাণের এক সুবর্ণ সুযোগ। টুর্নামেন্টের গুরুত্ব নিয়ে নর্থ জোন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘(পাকিস্তান সিরিজের) প্রস্তুতির জন্য খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি নতুন কিছু ক্রিকেটারও এখানে খেলার হয়তো সুযোগ পাবে। যারা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়মিত খেলছে, তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ। প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ।’ বিসিএলের এবারের আসরে ভেন্যু নির্বাচনে কৌশলগত বৈচিত্র্য দেখা গেছে। সাধারণত চট্টগ্রাম বা সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বেশি হলেও এবার উত্তরবঙ্গের দুই জেলাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বগুড়া ও রাজশাহীর উইকেট সাধারণত ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হয়। শান্তর বিশ্বাস, এই দুই ভেন্যুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট হবে যা আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে স্কিল ঝালাই করতে সাহায্য করবে। দলগুলোর শক্তিমত্তা এবং ভেন্যুর মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। চার দলের এই লড়াইয়ে সেরাটা দিয়ে সবাই পাকিস্তান সিরিজের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে মরিয়া। নর্থ জোনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইস্ট জোন। এছাড়া দক্ষিণ অঞ্চলের মাঠেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক ক্রিকেটে শারীরিক দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও খুব জরুরি। বিসিএলের মতো ওয়ানডে টুর্নামেন্টগুলো খেলোয়াড়দের ধৈর্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নির্বাচকদের কড়া নজর থাকবে নতুন ক্রিকেটারদের ওপর। পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে ব্যাক-আপ খেলোয়াড় তৈরির মিশন শুরু হচ্ছে এখান থেকেই। নর্থ জোনের স্কোয়াডে বড় নাম লিটন কুমার দাস। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার সামপ্রতিক ফর্ম মোটেও সুবিধাজনক নয়। শেষ আট ইনিংসের চারটিতেই খাতা খুলতে না পারা লিটনের ব্যাটে রানের খরা থাকলেও শান্তর কণ্ঠে ছিল ভিন্ন সুর। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে লিটনের শেষ আট ম্যাচে রান সংখ্যা মাত্র ১৩। এমন পরিসংখ্যান সত্ত্বেও লিটনের সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই অধিনায়কের। লিটনকে নিয়ে শান্তর মন্তব্য, ‘লিটন দাস যেভাবে টি-টোয়েন্টি খেলছে গত কিছুদিন, টেস্টেও ধারাবাহিক পারফর্মার। আমার মনে হয় না, ওয়ানডে নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কোন কারণ আছে। খুব ভালো শেপে আছে এবং আমি অধিনায়ক হিসেবে একদমই চিন্তিত নই যে লিটন ভালো অবস্থানে নাই এই ফরম্যাটে।’ অধিনায়ক মনে করেন, লিটনের মতো টেকনিক্যালি সাউন্ড ব্যাটার একবার রান পেতে শুরু করলে দলের চেহারা বদলে যায়। জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টও তার সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান নয়। যথাযথ সুযোগ দেয়া হলে তিনি আবারো ছন্দে ফিরবেন।
শান্তর মতে, লিটনের ব্যাটিং শৈলী এবং মানসিকতা এখন অনেক বেশি পরিপক্ব। মাঠের বাইরের সমালোচনা লিটনকে স্পর্শ করছে না। শান্ত লিটনের ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে আরও বলেন, ‘আপনি যদি সামপ্রতিক টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং দেখেন, দারুণ ব্যাটিং করছে। আমি আশাবাদী যে, সে দলের জন্য ভালো কিছু করবে। ওই ধরনের পরিপক্বতা তার অবশ্যই আছে। আর তার অভিজ্ঞতাও আমাদের দলের জন্য খুব ভালোভাবে সাহায্য করবে।’ অধিনায়ক বিশ্বাস করেন, বিসিএলেই লিটন তার চেনা ছন্দে ফিরবেন। পাকিস্তান সিরিজের আগে লিটনের ছন্দে ফেরাটা বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা খেলোয়াড়দের জন্য এটি জাতীয় দলের দরজা খোলার সুযোগ। পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং অ্যাটাকের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিসিএলের বোলারদের মোকাবিলা করা হবে উপযুক্ত প্রস্তুতি। নর্থ জোন শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। প্রতিটি ম্যাচকে তারা ফাইনাল হিসেবে বিবেচনা করছে। ক্রিকেটারদের নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু নিংড়ে দেয়ার এটাই মোক্ষম সময়।
শান্তর চোখে বিসিএল বড় সুযোগ
স্পোর্টস রিপোর্টার
২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
