সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে

সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে

ফন্ট সাইজ:

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ’২৪-এর জুলাইয়ের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের কারণেই ২০২৬ সালে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের 
বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার উদ্যোগে গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্‌ ময়দানে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জামায়াত আমীর বলেন, সরকার ইতিমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত দলের কর্মীদের ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেয়া, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেয়া, এইভাবে একটা দলীয় শাসন, একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু দেশের জনগণ এ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা মেনে নেবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলতো বিএনপিকে তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন রকমের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মো. আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ সহ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রণ করতো, তাদের অনেকেরই শুধু হাতবদল হয়েছে, কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চুরি, চাঁদাবাজি ও অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ সমাজকে ধ্বংস করে। অভাবের কারণে ভিক্ষা করা জায়েজ হতে পারে, কিন্তু চুরি ও চাঁদাবাজি সর্বাবস্থায় হারাম। তিনি মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নারায়ণগঞ্জকে একটি ‘স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আল্লাহ্‌ ভীরু, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব প্রয়োজন। বক্তব্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং বর্তমান অনির্বাচিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারকে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। ড. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডেও যোগ্য প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মো. আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ সহ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন