দীর্ঘ নিদ্রা ভেঙে জেগে উঠেছে জার্মানির নেকড়েরা। কুরাসাওকে হেসেখেলে ৭-১ গোলে হারায় জার্মানি। বিশ্ব ফুটবলকে নতুন করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জানিয়ে দিয়েছে- জার্মানি ফিরেছে ভয়ঙ্কররূপে। টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে এবার জার্মানদের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। আমাদ দিয়ালোর শেষ মিনেটের গোলে ইকুয়েডরকে হারায় আইভরিয়ানরা। আফ্রিকান দলটি শারীরিক শক্তি, গতি ও সংগঠিত ফুটবলের মাধ্যমে জার্মানদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আইভরি কোস্ট কোচ ইমার্স ফাই ইতোমধ্যেই বলে রেখেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরতে আসিনি। ফ্রান্সকে (প্রস্তুতি ম্যাচ) হারিয়েছি, শক্ত প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরের বিপক্ষে আমাদের শুরুটা হয়েছে দারুণ। পরের ম্যাচ জার্মানির বিপক্ষে? কঠিন হবে। কিন্তু আমরা ওদের চ্যালেঞ্জ জানাবো।
জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ জার্মানির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারও সতর্ক করে বলেছেন, ‘ওরা এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো দ্রুত। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি খুব পছন্দ করে। আমাদের তাই পুরো সময় সতর্ক থাকতে হবে।’ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাত্র দ্বিতীয়বার কোনো ম্যাচ খেলবে জার্মানি। একমাত্র সাক্ষাতটি ২০০৯ সালের প্রীতি ম্যাচে। সেবার ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দু’দল। কুরাসাওকে বিধ্বস্ত করার পর একদিন ছুটি কাটান জার্মান ফুটবলাররা। গত বুধবার অনুশীলনে ফেরে দল। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, দারুণ সূচনার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান। আইভরি কোস্টের গতিময় আক্রমণভাগ ঠেকাতে অনুশীলনেই কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন জার্মান কোচ।
বন্ধ দরজার অনুশীলনে প্রচলিত ৪-২-৩-১ ছক ছেড়ে ৫-৪-১ ফরমেশনেও দলকে
খেলাতে দেখা গেছে তাকে। সেই পরীক্ষায় রক্ষণভাগের ডান পাশে বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন লেরয় সানে। আইভরি কোস্টের দ্রুতগতির উইংগার দিওমান্দে ও তুরেকে ঠেকাতেই সানের গতি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা জার্মানদের। সানের রক্ষণাত্মক অবদান নিয়েও সন্তুষ্ট অধিনায়ক জশুয়া কিমিক। তিনি বলেন, ‘সে আমাকে কখনো একা ফেলে রাখেনি। বল হারানোর পর দ্রুত পিছিয়ে এসে রক্ষণে সাহায্য করেছে। শুধু গোল করাই নয়, তার আরও দায়িত্ব আছে।’ আক্রমণভাগেও নতুন পরিকল্পনা পরীক্ষা করেছেন নাগেলসমান।
এক পর্যায়ে কাই হাভার্টজের পাশে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয়েছে জামাল মুসিয়ালাকে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী একক স্ট্রাইকার থেকে দুই ফরোয়ার্ডের ছকেও বদলে যেতে পারে জার্মানি। ম্যাচের মাঝেই কৌশল বদলে ফেলার দক্ষতার জন্য পরিচিত নাগেলসমান। কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও প্রতিপক্ষের চাপ বাড়লে কুলিং ব্রেকের সময় কিছু পরিবর্তন এনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে নিয়েছিল জার্মানি। তাই আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও জার্মানদের অস্ত্র হতে পারে এই কৌশলগত নমনীয়তাই। জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামার
আগে সুখবর পেয়েছে আইভরি কোস্ট। দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এলিয়ে ওয়াহিকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে। প্রশাসনিক জটিলতা দূর হওয়ায় কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে জার্মানির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে বাধা নেই।
ফ্রান্সে চলমান একটি তদন্তের জেরে কানাডায় প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন ওয়াহি। একটি লীগ ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম এবং ইচ্ছাকৃতভাবে হলুদ কার্ড নেয়ার অভিযোগ ঘিরে তদন্ত চলছে তার বিরুদ্ধে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি মিলেছে বলেই দলের সঙ্গে কানাডায় যোগ দিতে পারছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগে ওয়াহি ছিলেন অন্যতম ভরসার নাম। তাকে একাদশে পাওয়া নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ‘এলিফ্যান্ট’দের।
দুঃস্বপ্ন কাটাতে চায় কুরাসাও
আগামীকাল কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাও খেলবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া নবাগত দলটি ঘুরে দাঁড়াতে চায়। কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট বলেন, ‘জার্মানি খুবই শক্তিশালী ছিল। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে আমাদের এই দলের চরিত্র দেখানো প্রয়োজন।’
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা মানতে পারছেন না ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসিসি। তিনি বলেন, ‘কষ্ট হচ্ছে, কারণ হারটি অন্যায্য। পরের ম্যাচে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস দুটোই প্রয়োজন।’
