বিশ্বকাপের মাঠ কাঁপানো লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের আনন্দের মাঝেই এক চরম বিতর্কিত ও হৃদয়হীন কাণ্ড ঘটিয়ে বসলো আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর মেসির কান্নার কারণ হিসেবে তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রচার করেন ‘লুজু টিভি’র ৫১ বছর বয়সী জনপ্রিয় সঞ্চালিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা। এই লাইভ সম্প্রচারের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠলে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। টানটান উত্তেজনার বিশ্বকাপে এই মিথ্যা খবর ছড়ানোর পর মেসির পরিবার থেকে একটি কড়া বিবৃতি দেয়া হয়। যেখানে হোর্হে মেসির অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করে বলা হয়, তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সেইসঙ্গে গণমাধ্যমের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মেসি পরিবার বলে, ‘যারা এই স্পর্শকাতর ও একান্তই পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনহীনতা ও অভদ্রতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের আচরণে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। যেকোনো ধরণের জল্পনা-কল্পনা বাদ দিয়ে এই মুহূর্তে আমরা সবার দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা প্রত্যাশা করি।’ ভুল বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি করে ক্ষমা চেয়েছেন সঞ্চালিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা। লাইভ চলাকালীন প্রোডাকশন টিমের দেয়া তথ্যের ওপর ভরসা করেই তিনি এই ভুল করেছিলেন বলে দাবি তার। তবে নিজের নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, ‘মেসি পরিবারের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।
এই তীব্র বেদনার বাহক হওয়ার জন্য আমি গভীরভাবে লজ্জিত। ভুলটি যেহেতু আমার হাত ধরেই হয়েছে, তাই আমি নিজে থেকেই লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ লুজু টিভি কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর ফ্লোরেন্সিয়াসহ পুরো প্রোডাকশন টিমকে বরখাস্ত করেছে। এদিকে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসিও স্পষ্ট করেছেন যে, তার চোখের জল ফুটবলের জন্য ছিল না। বরং বাবার অসুস্থতাজনিত কঠিন পরিস্থিতির কারণেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
