চাপে থাকা ডাচ্‌দের সামনে উড়ন্ত সুইডেন

চাপে থাকা ডাচ্‌দের সামনে উড়ন্ত সুইডেন

ফন্ট সাইজ:

স্বপ্নের মতো শুরু যাকে বলে, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সেটাই পেয়েছিল সুইডেন। ৫-১ গোলের বিধ্বংসী জয়ে এখন রীতিমতো উড়ছে আলেকজান্ডার ইসাক অ্যান্ড কোং। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা সুইডিশদের বিপক্ষেই এবার নতুন পরীক্ষা নেদারল্যান্ডসের। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের মহারণ শুরু হবে আজ রাত ১১টায়। জাপানের সঙ্গে ড্র করায় এই ম্যাচে জয় প্রয়োজন ডাচ্‌দের। ড্র করলেও বেঁচে থাকবে আশা। কিন্তু হেরে গেলে দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে অরেঞ্জদের।

বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ মেলেনি সুইডেনের। খেলতে হয়েছিল প্লে অফ। তারাই কি না তিউনিসিয়াকে ভাসিয়েছে গোলবন্যায়। বিশ্বকাপে গত ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটি সুইডেনের সবচেয়ে বড় জয়। অন্যদিকে, জাপানের বিপক্ষে দু’বার লিড নিয়েও শেষতক পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নেদারল্যান্ডসকে। দলের ভঙ্গুর দশায় সমালোচনার মুখে পড়েন কোচ রোনাল্ড কোমান। দ্বিতীয় গোলের পর হঠাৎ কেন রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছিলেন কোমান, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া। ডাচ কোচ নিজেও স্বীকার করেছেন, তার দলের সার্বিক উন্নতি প্রয়োজন। জাপানের বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে নামেন ডাচদের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেম্ফিস ডিপাই।

কোমানের আশা, সুইডেনের বিপক্ষে তিনি আরও ক্ষুরধার ডিপাইকে দেখতে পাবেন। ডাচ কোচ বলেন, ‘মেম্ফিস প্রায় প্রস্তুত। আমি বুঝতে পারছি সে ছন্দে ফিরে আসছে। তাই তাকে মাঠে নামিয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমরা আর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারিনি।’ ইংলিশ কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে সুইডেন দলে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। পটারের পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার কৌশল এখন পর্যন্ত কার্যকর। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরও যথাযথ কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর গিয়োকেরেসের সঙ্গে ইয়াসিন আয়ারি সুইডেনের আক্রমণভাগকে করে তুলেছেন ভয়ঙ্কর। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এ তিনজনই গোল-অ্যাসিস্টে অবদান রাখেন। আয়ারি করেন জোড়া গোল। ভালো শুরুর পরও অবশ্য সতর্ক পটার। তিনি বলেন, ‘শুরুটা ভালো। কিন্তু শুধুই শুরু। পরের ম্যাচেই আমরা ভিন্ন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবো। শনিবারের (আজ) ম্যাচটি আমাদের জন্য বিশাল এক পরীক্ষা।’

কাঠগড়ায় কোমান
জাপানের সঙ্গে ড্রয়ের পর কোমানের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ফুটবলার ও কোচ। একটি ডাচ সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক মিডফিল্ডার থিও ইয়ানসেন বলেন, ‘আমরা তো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাই, তাই না? কিন্তু যদি আপনি জাপানকে হারাতে না পারেন, তাহলে একটু ভেবে দেখা দরকার। জাপান ভালো দল, তবে শীর্ষ সারির নয়। আমাদের মতোই, সুইডেনের মতোই।’

একাদশ নিয়ে ইয়ানসেনের মন্তব্য, ‘কোমানকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো পরিবর্তন আনতে হবে। আপনি যদি দল থেকে গতি সরিয়ে দেন, তাহলে বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আবার সেই গতি ফিরিয়ে আনুন। যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিন। জাপানের বিপক্ষে সেটা দেখা যায়নি।’

হেড টু হেড
একই কনফেডারেশনভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মোট ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। যেখানে ১২ জয় নিয়ে এগিয়ে ডাচরা। সুইডিশদের জয় ৮টি। বাকি ৫ ম্যাচ হয়েছে ড্র। দু’দলই সমান ৫২টি করে গোল করেছে। তবে বিশ্বকাপের মূলপর্বে মাত্র একবারই সাক্ষাত হয়েছে তাদের। ১৯৭৪ সালের গ্রুপপর্বের ওই ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। এরপর ২০০৪ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে পেনাল্টিতে ৫-৪ ব্যবধানে হারায় নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় যা তাদের সর্বশেষ সাক্ষাত। আর সুইডেনের বিপক্ষে ডাচরা শেষবার ম্যাচ খেলেছিল ২০১৭ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে।

জয় হার ড্র গোল
নেদারল্যান্ডস ১২ ৮ ৫ ৫২
সুইডেন ৮ ১২ ৫ ৫২

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন