৭ রানের আক্ষেপ, সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ

৭ রানের আক্ষেপ, সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

তীরে এসে তরী ডুবালো হৃদয়রা। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ রানে হার দেখে বাংলাদেশ। এতে এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেল সফরকারীদের। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আগামী ২১শে জুন একই মাঠে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে টাইগাররা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম ওভারে নাসুমের বলে এক চার ও এক ছয়ে ১২ রান নেন দুই অজি ওপেনার। দ্বিতীয় ওভারে খরুচে ছিলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইনও। প্রথম দুই ওভারে অজিদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২৭ রান। তৃতীয় ওভারে অজিদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন নাসুম। লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন জশ ইংলিস। আউট হওয়ার আগে ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। তিনে নামা কুপার কনোলিকে সেট হতে দেননি নাহিদ রানা। তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাইফ হাসানের হাতে ধরা পড়েন কনোলি। ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর মিচেল মার্শও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। মার্শকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। এই ক্যাচটিও নেন সাইফ। ফেরার আগে মার্শ করেন ১৯ বলে ২০ রান।

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। তবে অস্ট্রেলিয়া সেই চাপ সামলে ওঠে ডেভিড-রেনশ’ জুটিতে। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন মিলে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। এ জুটি গড়ার পথে দুজনই খেলেছেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন। ম্যাট রেনশ খেলেন ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসুম আহমেদ। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ১৯৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ব্যাটে প্রথম দুই ওভারে আসে ৩৩ রান। তবে চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ লুফে ১৫ বলে ৩০ রান করা তানজিদকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রেনশ। এরপর সৌম্য সরকারও ৯ বলে ১৫ রান করে দ্রুত বিদায় নেন।

৭৭ রানে দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে আবারো ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ১২ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান। কিন্তু থিতু হয়ে দুজনের কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অ্যারন হার্ডির বলে কাভারে মিচেল মার্শের হাতে ধরা পড়েন ৩৬ রান করা পারভেজ। এর কিছুক্ষণ পর বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসের শিকার হন ৪২ রান করা সাইফ।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৪ রানের। শেষ দিকে এসে ধীর হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০। সেটা করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে ৩৫ রানে আউট হন তাওহিদ হৃদয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আব্দুল গাফফার সাকলাইন অপরাজিত থাকেন ১৩ রানে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন